প্রকাশিত: দুপুর ১২ টা ০৫ মিনিট, ১৬ জুলাই ২০১৭, রবিবার | আপডেট: দুপুর ১২ টা ১৮ মিনিট, ১৬ জুলাই ২০১৭, রবিবার
অাব্দুল্লাহ অাল মামুন:
শাকিলুর রহমান। শিশুসাংবাদিকতায় সমাদৃত একটি নাম। শাকিল এখন মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়েছে। দেশের প্রথম নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ টোয়েনন্টিফোর ডটকমের জনপ্রিয় বিভাগ হ্যালো এবং প্রিজমে শিশু সাংবাদিক হিসাবে কাজ করছেন।

শিশুসাংবাদিকতাকে আরো বেগবান করতে বিডিনিউজ টোয়েনন্টিফোর ডটকম ও ইউনেসেফ মাধ্যমে তাকে মোবাইল দিয়েছেন। পেয়েছেন স্থানীয় পর্যায়ের ও বিডিনিউজ টোয়েনন্টিফোর ডটকম থেকে আরো নানা পুরস্কার। স্বল্প সময়েই তিনি করেছেন এতো সব অর্জন। তার স্বপ্ন আকাশ ছোঁয়ার। আর তাই তো পড়াশুনার ফাঁকে চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতিভা বিকাশের সংগ্রাম। তার ভাষায়, তার কাছে সাংবাদিকতা সব। জীবনে পথচলা বড়ই কঠিন। অনেক বাঁধা পেরিয়ে পথ চলছি নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে। সংবাদ করার মধ্য দিয়েই অগণিত পাঠকের ভালোবাসা পেতে চাই। তরুণ এ শিশু সাংবাদিকের জীবনের গল্প জানিয়েছেন `বিএমটিআই নিউজ'কে।

শাকিলুর রহমানের জন্ম মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার সোনাপুর গ্রামে। শৈশবের দিনগুলো কাটে সেখানেই। বাবা সাইফুর রহমান সেনাবাহিনী এবং মা গৃহিনী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তার স্থান তৃতীয়। পড়ালেখা জীবন সম্পর্কে শাকিলের সবার মত প্রাইমারি স্কুলজীবন তো প্রাইভেট, স্কুল ও বাড়ি – এই তিন জায়গার মধ্যেই বন্দি ছিল। আর প্রাথমিক জীবনের প্রথম ধাপ ১-৫ শ্রেণী কেটেছে পাল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আর হাইস্কুল জীবনের প্রথম ধাপ ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণী কেটেছে পাল্লা বহুমুখী স্কুল এন্ড কলেজে। জেএসসি পরীক্ষায় এই স্কুল থেকেই অংশ নিই। এখান থেকেই জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৩.৬৯ পেয়েছি।












সাংবাদিকতা শুরুর গল্পটা জানতে চাইলে শাকিল বলেন, মুহম্মদপুর উপজেলা থেকে এক বড় ভাই আমাকে বলে আমি একটি পত্রিকাই সাংবাদিক করছি তুমি করলে দীঘা ইউনিয়ান প্রতিনিধি করে দিব আমি বলি আমি করব। সেখান থেকে সাংবাদিক শুরু। ২০১৬ সালে প্রথম দিন ফেসবুকে পরিচয় হয় মো আল্লাউদ্দিন নামে এক শিশু সাংবাদিকের সাথে পরিচয় হয়। তিনি শাকিলকে ‘হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েনন্টিফোর ডটকম ’ অনলাইন নিউজ পোর্টালে শিশু সাংবাদিক হিসেবে কাজ কররা সুযোগ করে দেন। এরপর পরিচয় হয় সাপ্ততাহিক ‘অর্থকাল’ পত্রিকার সম্পাদকের সাথে তিনি শাকিলকে শিশু রিপোর্টার করে দেন। এভাবেই শুরু হলো তার সাংবাদিকতায় পথ চলা। সাংবাদিকতার শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত, বিডিনিউজ টোয়েনন্টিফোর ডটকমে রিপোর্টার কাজী নাফিয়া রহমান, একাত্তর টিভির মাগুরা জেলা প্রতিনিধি শরীফ তেহরান টুটুল, বিডিনিউজ টোয়েনন্টিফোর ডটকমের শিশু সাংবাদিক আমিনুর রহমান হৃদয়, বিডিনিউজ টোয়েনন্টিফোর ডটকমের ফটো সাংবাদিক আসিফ মাহমুদ অভি, বিডিনিউজ টোয়েনন্টিফোর ডটকমের শিশু সাংবাদিক শেখ শরফুদ্দিন রেজা, বিডিনিউজ টোয়েনন্টিফোর ডটকমের সাংবাদিক নীল আহমেদ তাকে সাহস ও উৎসাহ যুগিয়েছেন এবং তাকে সহযোগিতা করে আসছেন।

ছোটবেলার নিয়ে জানতে চাইলে শাকিল বলেন, সব শিশু মত আমিও খেলা করতে পছন্দ করতাম। আমার ক্রিকেট খেলা বেশি পছন্দ। ছোট বেলার থেকে কবুতর, ঘুঘু পালন করতাম। আমি বিদেশি জাতের অনেক কবুতর ছিল। আমি কখনো ভাবিনি সাংবাদিকতা করব। সাংবাদিকতা পেশায় ভালো কিছু করব এমন আত্মবিশ্বাস আছে। এখন আমার কোনো সংবাদ যখন পত্রিকায় ছাপানো ও ভিডিও নিউজ প্রকাশ হয় তখন খুব ভালো লাগে। তখন নিজেকে সাংবাদিক সাংবাদিক মনে হয়।

সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। আমি বিডিনিউজ টোয়েনন্টিফোর ডটকমের হ্যালো ও প্রিজমে সাংবাদিকতা করছি কিছু দিন হল এর মধ্যে অনেক কিছু শিখেছি। এই সময়ে সংবাদের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে নানান অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় তাকে। বিডিনিউজের হ্যালোতে কাজ করতে গিয়ে নানান দিক নির্দেশনা পেয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েনন্টিফোর ডটকমের নাহার আপু ও প্লেটো দাদা, মহুয়া আপুর কাছ থেকে। সরেজমিনে গিয়ে কীভাবে নিউজ তৈরি করতে হয় এসব কলাকৌশল শিখিয়েছেন তারা। তিনি বলেন, নিউজ করতে গিয়ে কোন সমস্যা হলে মহুয়া আপু, নাহার আপু, প্লেটো দাদা অনেক সাহায্য করে। প্লেটো দাদা ভিডিও নিউজে অনেক সাহায্য করে।





হিজড়া শিশুরা কষ্টে আছে ও ‘ভিক্ষে নির্ভর মুক্তিযোদ্ধার জীবন’ এরকম বেশ কয়েকটি সংবাদ বিডিনিউজের হ্যালো ও প্রিজমতে প্রকাশিত হওয়ার পর পরিচিতি বেড়েছে তার। নিউজের ফলে সুবিধাবঞ্চিত এক শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। বিডিনিউজ সংবাদ প্রকাশের পর কাচাঁ রাস্তা পাকা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে হাট বসতো হ্যালোতে সংবাদ প্রকাশের পর মাঠ দখল মুক্ত হয়েছে। সোনাপুর বাঁশের সাঁকোর বেহাল অবস্থা এই সংবাদটি প্রকাশেরর পর একটি ছোট সেতুর ব্যবস্থা হয়। এসব ঘটনা তাকে কাজের ব্যাপারে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

সাংবাদিকতা জীবনের প্রাপ্তি বিষয়ে জানালেন, আমি বলে পারি পৃথিবীতে কোনো শিশু সাংবাদিক প্রধানমন্ত্রীর নিউজ করতে পারিনি কিন্ত আমি প্রধানমন্ত্রীর নিউজ করেছি। আমি গর্রব করে বলে পারি আমি প্রধানমন্ত্রীর নিউজ করেছি। এটা আমার জীবনে বড় পাওয়া। আমার অনেক ইচ্ছা ছিল প্রধানমন্ত্রীর নিউজ করব। কখনো ভাবিনি শিশু সাংবাদিক হিসাবে নিউজ করব।

কোনো ভালো নিউজ করলে ইউনেসেফের ফেসবুকে ও বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী স্যার শেয়ার করে তখন অনেক ভালো লাগবে। আমি সব সময় ভাবি আমি অন্যে ধরণের নিউজ করর যে নিউজ করব কোনো মিডিয়া যে নিউজ কখনো করেনি। আমি যখন হিজড়া শিশুর নিউজ করি তখন অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কোনো হিজড়া বা হিজড়া শিশু আমার সাথে কথা বলতে রাজি হয় না এমন কি বিডিনিউজের আইডি কার্ড দেখালেও রাজি না হয় হিজড়া বলেন, আপনি সাংবাদিক হলেও আপনার সাথে কথা বলা যাবে না। পরে অনেক কষ্ট করে রাজি করি তাদের।



হিজড়ারা যখন আমার কথা বলছি তখন তাদের চোখ দিয়ে পানি পরছিল। অনেক কষ্টে পর যখন নিউজ প্রকাশ হয় অনেক ভালো লাগে। বড় সাংবাদিক ভাইয়া আমাকে ফোন দিয়ে বলে শাকিল তোমার হিজড়া শিশুর নিউজটা অনেক সুন্দর হয়েছে। কি ভাবে করলে আমাদের এই ধরণের নিউজ মাথাই ছিল না। এছাড়া কিছুদিন হল ‘ভিক্ষে নির্ভর মুক্তিযোদ্ধার জীবন’ তার সংবাদ প্রিজম ডট বিডিনিউজ টোয়েনন্টিফোর ডটকম প্রকাশ হলে বিভিন্ন মিডিয়া এই নিউজটা করে । এছাড়া আমার ভিডিও সংবাদটি দেখে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকেই ফোনে এবং ফেসবুকে শেয়ার ও ফেসবুকে মেসেজে বলে, ভা’ইয়া আপনার ভিডিওটা খুব ভালো হয়েছে। আরো বেশি হয় যখন শুনি আমার নিউজের ফলে মুক্তিযোদ্ধা এক তালিকাই নাম চলে এসেছে। এমন ছোট ছোট কাজ বা মেসেজগুলো আমাকে এই পেশায় কাজ করতে আরো উৎসাহ জোগায়।

বিডিনিউজ টোয়েনন্টিফোর ডটকমে হ্যালো ও প্রিজমে সাংবাদিকদের সাথে কাজ করতে কেমন লাগে? আমাদের সবাই অনেক ভালো মনে মানুষ। তারা আমাকে অনেক ভালোবাসে আমিওদের অনেক ভালোবাসি। আরিয়ান ভাইয়া, হৃদয় ভাইয়া, সাদিক ইভান ভাইয়া, নানজীবা আপু,পৃথা, সজিবুল হাসান ভাইয়া, ছোট ভাই সাকির, সুমন ভাইয়া, আল্লাউদ্দিনসহ অনেকেই আমরা বিডিনিউজ টোয়েনন্টিফোর ডটকমে একসাথে কাজ করছি। বর্তমানে আপনাকে বিনোদন নিউজ করতে দেখা যাচ্ছে? সব ধরণের নিউজ করতে আমার ভালো লাগে। বিনোদন নিউজ করা অনেক কষ্টে আছে। কিছু দিন বিনোদন নিউজ করব তার পর খেলাধূলা নিউজ করব। আসলে বিনোদন সম্পর্কে কিছু শিখছি তাছারা তেমন কিছু না।

কেমন লাগে সাংবাদিকতা? জীবনে পথচলা বড়ই কঠিন। অনেক বাঁধা পেরিয়ে পথ চলছি নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে। তবে সাংবাদিকতার সুবাদে সরকারি-বেসরকারি অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথেই পরিচয় হয়েছে ও আন্তরিক সম্পর্কও গড়ে উঠেছে। শুরুতে ফোনে কথা বলতে ভয় পেতাম এখন আর কোনো সমস্যা হয়। বিভিন্ন অনুষ্ঠান ছাড়াও কোনো শিশুদের প্রোগ্রাম হলেই আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

সাংবাদিকতা নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা জানতে চাইলে শাকিল বলেন, সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশুনা করার ইচ্ছে আছে। আর পড়াশুনা শেষ করে সারাদেশ ঘুরে ঘুরে নিউজ সংগ্রহ করবো। আর সাংবাদিতার পাশাপাশি গরীব শিশুদের নিয়ে কাজ করব। আর আমি এখনো গরীব শিশুদের নিয়ে কাজ করি। আমার কাছে অনেক ভালো লাগে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।




বিএমটিঅাই নিউজ/ এম সি
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
২০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
একটা নদী উপহার পেয়েছি রটনার মত ছড়িয়ে যাচ্ছে , গুজব না সত্যি ! আমার একটা নদী আছে যদিও আমি নদী চাইনি চেয়েছি চাঁদ , তবু নদীই পেলাম বিস্তারিত
২০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এক গৃহবধু দেবর ও ভাশুরের নির্যাতন, হয়রানিমূলক মামলাসহ বিভিন্ন কুৎসার হাত থেকে নিজের পরিবারের সদস্যদের বাঁচাতে সংবাদ সম্মেলন বিস্তারিত
২০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
ড্রিম ডিভাইজারের নিজস্ব উদ্ভাবিত স্বপ্ন- সুশিক্ষা- সুযোগ মডেলে সুশিক্ষায় স্বপ্নবুননে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে। সুশিক্ষায় স্বপ্নবুননে বিশেষ আয়োজন হচ্ছে স্বপ্ন-আড্ডা। স্বপ্ন আড্ডার বিস্তারিত
© স্বত্ব বিএমটিআইনিউজ ২০১৫ - ২০১৭
সম্পাদক :
মিঞা মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : শাহআলম শুভ
৩৭৩,দিলু রোড (তৃতীয় তলা)মগবাজার, ঢাকা-১২১৭
ফোন: ০২৯৩৪৯৩৭৩, ০১৯৩৫ ২২৬০৯৮
ইমেইল:bmtinews@gamil.com