প্রকাশিত: বিকাল ২ টা ১৩ মিনিট, ১৩ জুলাই ২০১৭, বৃহস্পতিবার | আপডেট: বিকাল ২ টা ১৪ মিনিট, ১৩ জুলাই ২০১৭, বৃহস্পতিবার
এবিএম সোলায়মান:
ঢাকা বাবু বাজার টু গাবতলী রাস্তার সমস্যার যেন অন্ত নেই। গাড়িতো দূরের কথা সাধারণ মানুষও হাঁটতে পারে না কোনোভাবে। ১২ কিলোমিটার এই দীর্ঘ সড়কটি এখন সম্পূর্ণই ক্ষতবিক্ষত। জায়গায় জায়গায় গর্তে ভরা।
রাস্তাটি দেখে মনে হতেই পারে ধান চাষের উপযুক্ত ভূমি।



বৃহস্পতিবার সারাজমিনে দেখা গেছে, পুরান ঢাকার বাবুবাজার ব্রিজের নীচ থেকে বেড়িবাঁধ সড়কের দুরবস্থার কারণ, সামান্য বৃষ্টির পানি ও মাটির সংমিশ্রণে সড়কটিতে কাদা -পানিতে ভরে যায়। মিটফোর্ড হাসপাতালের পেছনের অংশ (দক্ষিণ), সোয়ারীঘাট, কামালবাগের টাংকিঘাট ও ইসলামবাগ হয়ে কামরাঙ্গীরচর লোহার ব্রিজ পর্যন্ত এবং সেকশন থেকে কোম্পানিঘাট পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়কে অসংখ্য গর্ত ও কাদায় ভরা।





স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মিটফোর্ড হাসপাতালের পেছনের অংশের বেড়িবাঁধ দেখে চেনার উপায় নেই, এটি কোনো সড়ক না ধান ক্ষেত। কোনো কোনো জায়গা এমনই গর্ত যে একটুখানি বৃষ্টি হলেই পানি জমে ছোটখাটো ডোবা হয়ে যায়।


ব্রাদার্স পরিবহন মালিক কর্তৃপক্ষের সাথে কথা জানা যায়, তাদের বেশ কয়েকটি বাস এই নাজুক সড়কের কারণে অকেজো হয়ে পড়েছে। গর্ত ও কাঁদার কারণে বাসের যন্ত্রপাতি প্রতিদিন বিকল হয়ে পড়ছে। এছাড়া প্রতিদিন ছোটখাটো দুর্ঘটনা তো ঘটছেই।
বাস কর্তৃপক্ষের দাবি, ২০১০ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটি মেরামত করা হয়েছিল। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে মেরামত হওয়ায় এক বছরের মধ্যে সড়কে গর্তের সৃষ্টি হয়। এদিকে সড়কটি মেরামত করে দিতে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে সওজকে বারবার বলা হলেও কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে ট্রাফিক বিভাগ।


অপরদিকে, কামরাঙ্গীরচর ব্রিজের পর থেকে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত বেড়িবাঁধ সড়কের অবস্থা কিছুটা ভালো হলেও সেখান থেকে গাবতলী পর্যন্ত রাস্তা অত্যন্ত খারাপ। হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুরের তিনরাস্তা, নবীনগরের লোহার গেইট, ঢাকা উদ্যান সড়কের এ অংশে জলাবদ্ধতা না থাকলেও রয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। এর মধ্যে দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলছে।

পথচারী ও পরিবহনের যাত্রীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, খুব ঠেকায় না পড়লে কেউ এই বেড়িবাঁধ সড়কটি ব্যবহার করতে চান না। তাই বেড়িবাঁধ সংলগ্ন অলিগলি দিয়েই সব গাড়ি ঢুকছে শহরের ভিতরে। এতে ওই এলাকার সব ছোট বড় সড়কেই যানজট লেগেই থাকে।



















গাবতলী থেকে সদরঘাটে আসা বাসযাত্রী মাহবুব আলম বলেন, “বেড়িবাঁধের রাস্তার অবস্থা এতোই খারাপ যে, মনে হয়েছে বাসটি কোনো সাগরের তুফানে পড়ছে। জীবনে আর এই সড়কে আসব না।”

ব্রাদার্স পরিবহনের বাসচালক শামিম বিএমটিআই নিউজকে বলেন, “গাড়ির স্টিয়ারিং হুইল ধরে রাখতে রাখতে হাত ব্যাথা হয়ে যায়। গাড়ির অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। আগের মতো যাত্রীও পাওয়া যায় না।

২০১০ সালের শুরুতে সওজ অধিদফতর প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধ রাস্তাটি মেরামত করেন।


প্রসঙ্গত, বেড়িবাঁধ সড়কের গাবতলী-বাবুবাজার অংশটি পুরান ঢাকার কোতোয়ালি, লালবাগ, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর ও মোহাম্মদপুর এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় নবযুগের সূচনা করেছে। সড়কটি ভালো থাকলে গাবতলী থেকে দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতু হয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে বিনা যানজটে যাতায়াত করা যায়। এতে শহরের ভেতরে যানবাহনের চাপও হ্রাস পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সে সুযোগ কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ঢাকা মহানগরীকে বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নব্বই দশকের শুরুতে দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতুর পাদদেশ বাদামতলী-বাবুবাজার ও সোয়ারীঘাট দিয়ে গাবতলী হয়ে টঙ্গীর আবদুল্লাহপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে।





বিএমটিআই নিউজ /এন এস
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
২০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
একটা নদী উপহার পেয়েছি রটনার মত ছড়িয়ে যাচ্ছে , গুজব না সত্যি ! আমার একটা নদী আছে যদিও আমি নদী চাইনি চেয়েছি চাঁদ , তবু নদীই পেলাম বিস্তারিত
২০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এক গৃহবধু দেবর ও ভাশুরের নির্যাতন, হয়রানিমূলক মামলাসহ বিভিন্ন কুৎসার হাত থেকে নিজের পরিবারের সদস্যদের বাঁচাতে সংবাদ সম্মেলন বিস্তারিত
২০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
ড্রিম ডিভাইজারের নিজস্ব উদ্ভাবিত স্বপ্ন- সুশিক্ষা- সুযোগ মডেলে সুশিক্ষায় স্বপ্নবুননে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে। সুশিক্ষায় স্বপ্নবুননে বিশেষ আয়োজন হচ্ছে স্বপ্ন-আড্ডা। স্বপ্ন আড্ডার বিস্তারিত
© স্বত্ব বিএমটিআইনিউজ ২০১৫ - ২০১৭
সম্পাদক :
মিঞা মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : শাহআলম শুভ
৩৭৩,দিলু রোড (তৃতীয় তলা)মগবাজার, ঢাকা-১২১৭
ফোন: ০২৯৩৪৯৩৭৩, ০১৯৩৫ ২২৬০৯৮
ইমেইল:bmtinews@gamil.com