প্রকাশিত: বিকাল ১ টা ০০ মিনিট, ১৩ জুলাই ২০১৭, বৃহস্পতিবার | আপডেট: বিকাল ১ টা ০২ মিনিট, ১৩ জুলাই ২০১৭, বৃহস্পতিবার
এবিএম সোলায়মান
ঢাকা, হাজারীবাগ থেকে লেগুনা হয়ে আজিমপুরে আসছিলাম মগবাজার যাবার উদ্দেশ্যে। তখন আনুুমানিক সোয়া আটটা বাজে। আমার পাশেই বসাছিল এক মাঝবয়সী ভদ্র লোক। রাস্তায় সামান্য জ্যাম পড়াতেই তার মেজাজটা যেন বিঘ্রে গেল। এবং বলতে লাগল, জ্যামের জন্যই দুই ঘণ্টা আগে বাসা থেকে বেড় হই, আবার সেই জ্যামেই পড়তে হয়, কোন দেশে যে আমরা বাসকরি! এমনিভাবে নিজে নিজেই গাড়িতে করে বকছিলেন।
আমি বললাম, আংকেল আপনি কিসে, কোথায় চাকরি করেন? তিনি বললেন, মিরপুরে একটা প্রাইভেট কোম্পানিতে।
আমি বললাম, আপনার অফিস কয়টায়?

তিনি বললেন, ১০টায় অফিস বাসা থেকে দুই আড়াই ঘণ্টা আগেই বেড় হই জ্যামের জন্য। আমার জ্যাম-ট্যাম একদম ভাললাগেনা তাই সকাল সকাল সবার আগেই অফিসে চলে যাই।
আমি বললাম, এখান থেকে মিরপুর যেতে তো দুই-আড়াই ঘণ্টা সময় লাগেনা, তাহলে এত তাড়াতাড়ি গিয়ে সেখানে কি করেন?
লোকটি বলল, সকালবেলা এখান থেকে যেতে ৩০-৩৫ মিনিট লাগে। অফিসে গিয়ে পেপার পড়ি, ফেইসবুক চালকই এভাবে সময়টা পাড় হয়ে যায় তাতে অনেক ভাল। এই সময়টার আধাঘণ্টা পরে আসলেই দুই ঘণ্টা সময়েও অফিসে পৌঁছাতে পারিনা। কোন কোন সময় হাজারিবাগ থেকে আজিমপুর যেতেও দেড় ঘণ্টা লেগে যায়। কথা বলতে বলতেই চলে আসলাম আজিমপু বাস্টেন।

রাজধানী ঢাকা শহরের ছোট বড় অধিকাংশ রাস্তাগুলোতে জ্যাম লেগেই থাকে। কোনভাবেই রেহাই পাচ্ছেনা যানজটের কবল থেকে ঢাকাবাসী। এক জরিপে জানা যায়, ঢাকা শহরে প্রতিদিন আনুমানিক ১৮০ টি নতুন গাড়ি রাস্তায় নামানো হয়। এ হিসেবে প্রতিবছর ৪০ হাজারেরও বেশি গাড়ি যোগ হচ্ছে ঢাকার রাস্তায়। কিন্তু সে তুলনায় রাস্তা বৃদ্ধি বা প্রশস্ত কোনটাই হচ্ছে না। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করছে গাড়িতে বসে থেকে। সময় মত পৌঁছাতে পারছেনা তাদের নিদিষ্ট কর্ম স্থলে। যার ফলে পোহাতে হয় নানান জটিলাতা। শুধুমাত্র জ্যামের কারণে রাজধানীতে ৪০ লক্ষ কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ায় দৈনিক ক্ষতি হচ্ছে ৩০০ কোটি টাকা। এবং জ্যামের জন্যে ৭৩ ভাগ মানুষ শারীরিক ও মানুষিক ক্ষতি হচ্ছে।

যানজটের আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত যানবাহন। যেখানে সোয়া দুই লাখ গাড়ি চলাচলের উপযোগি সেখানে সাড়ে নয় লাখ গাড়ি চলাচলের অনুমোদন কোন অবস্থাতেই সুখকর নয়।
এসব গাড়ির মধ্যে বেশিরভাগই হচ্ছে মালিকানা। রাজধানীর রাস্তাগুলোতে যেন মনে হয় গাড়ির সংখ্যা এবং রাস্তার আয়তন সমানুপাতে রয়েছে। সামান্য ট্যাফিক সিগ্নালে দুই সিগ্নালের মাঝামাঝি জায়গাটুকু গাড়ি দ্বারা কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। এক জরিপে দেখা গেছে আগামী ২০ বছরে রাজধানীতে ৫৫ শতাংশ জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। ঢাকার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় দুই কোটি যা ২০৩৫ সালে বেড়ে দাঁড়াবে ৩ কোটির কাছাকাছি। তখন অবশ্যই এই অতিরিক্ত ১ কোটি জনগনের জন্য আরো অতিরিক্ত গাড়ি প্রয়োজন হবে, এবং প্রয়োজন হবে রাস্তারও
ঢাকা শহরে ৩৬০ কিলোমিটার আয়তনের মধ্যে ৮ শতাংশ ভূমি রাস্তা হিসেবে চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। একটি আদর্শ নগরীর জন্য মোট ভূমির ২৫ শতাংশ রাস্তার জন্য প্রয়োজন হলেও এখানে মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ কার্যকর সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সকল তথ্য মতে রাজধানী ঢাকা যোগাযোগ ব্যবস্থা সকলদিক থেকেই অনুন্নত। এসব যানজটে কাটাতে হলে ফুট অভারব্রীজ থেকে শুরু করে পর্যাপ্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ, মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে রাস্তার প্রশস্তিকরণ ইত্যাদি সকল বিষয়ে জোড়ালোভাবে গুরুত্ব দিতে হবে, গণসচেতনতার বৃদ্ধির পাশাপাশি, গাড়ি চালকদের সতর্কতার সহিত গাড়ি ড্রাইভ করতে হবে। ট্রাফিক সিগনাল মেনে চলতে হব। রাস্তার পাশে জমে ওঠা ফুটপাত দোকানগুলো সড়াতে হবে। বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে পানি যে আটকে না থাকে সে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ট্রাফিক সিগনালগুলো সচল রাখতে হবে।
পরিশেষে আমাদের নগরের প্রতিটি নগরবাসী যার যার জায়গা থেকে সচেতন থাকলে খুব দ্রুত এই সমস্যা থেকে উত্তরণ হওয়া যাবে।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
০২ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
ভালো আছি! চশমাটা এই নিয়ে তিনবার ভাঙলো,তাও ভালো ফ্রেম, তাপ্তি দেওয়া যায়,যদি কাঁচ হতো ! শীতে একটা সোয়েটারের খুব দরকার,না থাক! এখন বিস্তারিত
৩০ ডিসেম্বর ২০১৭
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
উৎসবমুখর পরিবেশে ১৯ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সিনেট রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন-২০১৭। মোট ২টি কেন্দ্রে ১১৪টি বুথে সকাল বিস্তারিত
২৪ ডিসেম্বর ২০১৭
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
সুন্দর স্বপ্নকে কিভাবে প্রয়োজনীয় সুশিক্ষার মাধ্যমে সুযোগে পরিণত করা যায়, তা জানাতেই ড্রিম ডিভাইজার টিম কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে, ২৩ ডিসেম্বর, বিস্তারিত
© স্বত্ব বিএমটিআইনিউজ ২০১৫ - ২০১৭
সম্পাদক :
মিঞা মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : শাহআলম শুভ
৩৭৩,দিলু রোড (তৃতীয় তলা)মগবাজার, ঢাকা-১২১৭
ফোন: ০২৯৩৪৯৩৭৩, ০১৯৩৫ ২২৬০৯৮
ইমেইল:bmtinews@gamil.com