প্রকাশিত: সন্ধ্যা ৬ টা ৫৫ মিনিট, ১২ জুলাই ২০১৭, বুধবার | আপডেট: সন্ধ্যা ৬ টা ৫৫ মিনিট, ১২ জুলাই ২০১৭, বুধবার
শাকিল মুরাদ, শেরপুর:
বাড়িটির নাম সুইপার কলোনি। শুধু নামেই কলোনি। এখানে নেই কোনো দালান কোঠা। অনেকের মাঝে এটি মেধরপট্রি বলেও পরিচিত। বাড়ির কাছে গেলেই ভেসে আসে চুলাই মদের গন্ধ্য। এর আশপাশে নোংরা আবর্জনা। যাতায়াতের পথটিও একেবারেই সরু। নানা সুবিধা বঞ্চিত দলিত সম্প্রদায়ের এ বাড়ির লোকগুলোর কোনো পরিবর্তন আসছেনা। বরং দিন দিনি পিছিয়ে পড়ছে। ক্রমাগত হচ্ছে সমাজ থেকে আলাদা। তবে ওরাও স্বপ্ন দেখে। ওদের স্বপ্নও যেন আকাশ ছোঁয়া। দিন বদলের দিনে ওরাও আসতে চায় সামনের দিকে।

দলিত সম্প্রদায়ের এ বাড়িটি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ঝগড়ারচর বাজারে। এখানে রয়েছে ১০টি পরিবার। ওই বাড়ির কর্তা সৎনা সুইপার ৬০)। তিনি মৃত সীতারাম সুইপারের ছেলে। তিনি শোনালেন তাদের জীবনের গল্প। তার স্ত্রী বাসন্তী সুইপার। বাসন্তী সুইপারের বাপের বাড়ি উপজেলার ভায়াডাঙা বাজারে। দুই ছেলে। শ্যামল বড়–য়া ও বদুয়া সুইপার। দু’জনেই বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছে। এখন তার নাতী নাতনীও রয়েছে। তাদের একমাত্র পেশা বাজার আর অফিস ঝাড়– দেয়া। তারা মাসিক, সাপ্তাহিক বা দৈনিক হাজিরায় কাজ করে। এ পেশায় তাদের এক মাত্র ভরসা। তিনি বলেন, আমরা খুব কষ্টে আছি। কোনো মতো ছাবড়া ঘরে থাহি। এ জমিডাও সরহারি (সরকারি)। তবে এইহানে আমার বাপ দাদারাও ছিল। আমরাও আছি। তিনি আরো বলেন, আমরা আগে বুঝি নাই। তাই পোলা পানগরে লেহা পড়া করাই নাই। অহন বুঝছি। এর লাইগা নাতী নাতনীগোরে লেহা পড়া করাইতাছি। ওরা লেহা পড়া কইরা মানুষ অইবো।

তার স্ত্রী বাসন্তী সুইপার বলেন, আমরা সরহারের কাছে কিছুই চাইনা। আমগরে থাকবার জায়গাডা যেন কাইড়া না নেয়। আমরা যেন যুগ যুগ ধইরা এইহানে থাকবার পাই। অনিশ্চিত ভবিষৎত আর হতাশার কথা শোনালেন একই বাড়ির লক্ষন সুইপার (৪০)। তার স্ত্রী সুদী সইপার (৩৫)। দুই ছেলে এক মেয়ে। ভাই ভজন সুইপার (৩৫)। তার স্ত্রী রেমা সুইপার। রেমা সুইপার বলেন, আমরা যে মানুষ তা মনেই অয়না। সারাদিন বাজারে ঝাড়– দেই। যা দেয় ওইডা দিয়ে আমগোর সংসার চলে। মাঝে মধ্যে ভাত দিয়ে দারু বানাই। আত্মীয় ন্বজন আইলে তা পরিবেশন করি। এডাই আমগোর জীবন। তবে তার মধ্যেও দেখা যায় আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নের প্রত্যাশা। তার ছেলে মেয়েকে পড়া লেখা করাচ্ছে। তারা বড় হয়ে ভাল কিছু করবে। হয়তো তাদের জীবনের পরিবর্তন আসবে। এ গল্পটি সুবিধা বঞ্চিত হরিজনদের। তাদের থাকার মতো নিজস্ব কোনো জমি নেই। অন্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিবিৎসা, শিক্ষাসহ মৌলিক সুবিধা বঞ্চিত এই হরিজনরা। এখন তারা পিছিয়ে পড়া একটি জনগোষ্ঠী। সম্প্রতি তাদের ও এলাকার বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজনের সাথে কথা বলে ওঠে আসে এসব তথ্য।

ঝগড়ারচর বাজারের হরিজনরা স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই এখানেই বসবাস। অথচ তাদের নামে এক খন্ড জমি নেই। সরকারের খাস খতিয়ানের জমিতে থাকে ওরা। সেখানেও থাকতে হয় চাপাচাপি করে। ওদের কেউ অসুস্থ্য হলে অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেনা। বাপ দাদার আমল থেকে ওদের একমাত্র পেশা সুইপারের কাজ করা। কিন্তু এখানেও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত। তাই ওদের দিন চলে অতি কষ্টে। হরিজন বাড়িটি নিচু এলাকা। বৃষ্টি হলে পানি জমে এ বাড়িতে। এখানে নেই কোনো স্যানিটেশন ব্যবস্থা। এখনো খোলা আকাশের নিচে পায়খানা ব্যবহার করতে হয় ওদের। নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক এক হরিজন জানান, চেয়ারম্যান মেম্বাররা তেমন কিছু দেয়না। শুধু ভোটের সময় খবর নেয়। ভিজিডি, ভিজিএফ, বয়স্কভাতাসহ নানা সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়াও শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে পড়ে আছে অনেক পিছনে। মাঝে মধ্যে ওদের বাড়িতে চলে দারু বা চুলাই মদের পরিবেশন। বিয়ে বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এসবের মাত্রা বেড়ে যায়। এতে ওদের ছেলে মেয়েরা হয় বিপদগামী। ফলে ওরা সমাজ থেকে ক্রমাগত সড়ে পড়ে। এছাড়াও ওদের মধ্যে যৌতুক প্রথাটা যেন বেড়েই চলেছে। এতে কন্যা দায়গ্রস্ত বাবার সংখ্যাও বাড়ছে। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আরজু মিয়া বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওদেরকে নানা ধরণের সুবিধা দেয়া হয়। যাতে ওরা আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। ভেলুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, হরিজনরা এখন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী। তাই ওদের জন্য সব সময় নানা সুবিধা দেবার চেষ্টা করি। মানবাধিকার কর্মী সুবীর কুমার জানান, ওদের জন্য স্থায়ী বসতভিটা দরকার। এছাড়াও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদানে আলাদা কোটা থাকাও জরুরি। যাতে ওরা সকল সুযোগ সুবিধা পায়। এ জন্য প্রয়োজন সরকারি, বেসরকারি ও এনজিওসহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা। নইলে হয়তোবা এ জনগোষ্ঠীর জীবনে ঘটবে চরম বিপর্যয়। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ভিশন থেকে ওরা থাকবে অনেক পিছনে। দারিদ্র্যতার চাপায় ঢাকা পড়বে ওদের স্বপ্নগুলো
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
অতি উৎসাহী অনুগামী কী কী করতে পারে? তা সিনেমার পর্দায় একাধিকবার উঠে এসেছে। তারকাদের জীবনেও এ ঘটনা নতুন নয়। ভালবাসার এই বিস্তারিত
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের ভাউড়িরচর গ্রামের জামাল হোসেনের ছাগলের খামারে আগুন লেগে প্রায় দেড়শত ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৮ জানুয়ারী) বিস্তারিত
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
তারুণ্যদীপ্ত নাট্যসংগঠন "নাট্যদল" টি.এস.সি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর-ই সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান স্বরুপ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সন্মাননা প্রদান করে থাকেl এরই ধারাবাহিকতায় বিস্তারিত
© স্বত্ব বিএমটিআইনিউজ ২০১৫ - ২০১৭
সম্পাদক :
মিঞা মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : শাহআলম শুভ
৩৭৩,দিলু রোড (তৃতীয় তলা)মগবাজার, ঢাকা-১২১৭
ফোন: ০২৯৩৪৯৩৭৩, ০১৯৩৫ ২২৬০৯৮
ইমেইল:bmtinews@gamil.com