প্রকাশিত: বিকাল ২ টা ০৭ মিনিট, ১২ জুলাই ২০১৭, বুধবার | আপডেট: বিকাল ২ টা ০৯ মিনিট, ১২ জুলাই ২০১৭, বুধবার
এবিএম সোলায়মান :

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলছে সবকিছুতে পরিবর্ত। একসময় মানুষ কৃষির উপড় সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল থাকলেও এখন তা নেই। উন্নত প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানের বিষ্ময় আবিষ্কারের ফলে উদ্ভাবিত হয়েছে শিল্প বিপ্লবের। বাংলাদেশে পোষাক শিল্পের উদ্ভব ঘটে ষাটের দশকে সেটা পরিপূর্ণতা লাভ করে আশির দশকে এসে।

এই শিল্পটি থেকে রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮০ ভাগই জোগান দিয়ে থাকে। কর্মরত শ্রমিকদের ৭৫% হচ্ছে মহিলা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে কৃষিশিল্প ছাড়া মহিলাদের জন্য তেমন কোন কার্য ক্ষেত্র ছিল। আশির দশকের দিকে পোষাক শিল্পের প্রসারের ফলে ধীরে ধীরে মহিলারা যুগ দিতে থাকে। মালিক পক্ষরা আগ্রহী হয়ে ওঠে তাদের কাজ দেওয়ার সস্তা শ্রম মূল্যে এসব মহিলারা গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে করে। থেকে-খেয়ে মাস শেষে যে ক'টাকা থাকে তাতেই ওরা সন্তুষ্ট।

পোষাকশিল্পের প্রসারণের সাথে সাথে বাড়তে থাকে শ্রমিক সংখ্যাও, ফলে এসব কারখানার আশেপাশে জায়গার মূল্যও সবকিছুরর সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে ওছে। বাড়তে থাকে ঘড় ভাড়া, দৈনন্দিন ব্যবহৃত দ্রব্য মূল্যের দাম।

প্রথম দিকে অদক্ষ এবং অশিক্ষিত শ্রমিকের সংখ্যা বেশি থাকলেও পরে ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে, ফরে শ্রমিকদের মনে সৃষ্টি হয় অধিকার আদায়ের স্বপ্ন। আস্তে আস্তে গঠিত হয় ভিবিন্ন শ্রমিক সংগঠন। অধিক পরিশ্রমে সামান্য বেতনে কাজ করতে তাদের মনে যেন কিছুতেই প্রশান্তি আসছিলনা। শুরু হতে থাকে ন্যায্য অধিকার আদায়ের প্রতিবাদ। গঠিত হয় ট্রেড ইউনিয়ন, যেখানে শ্রমিকরা তাদের অধিকারের কথা বলতে পারবে।






আশির দশকের পর থেকে বাংলাদেশের তৈরি পোষাক মোটামোটি ভালই যাচ্ছিল। রপ্তানি পণ্যের অর্ধেকেও বেশি যোগান দিয়ে আসছে বাংলাদেশের পোষাক শিল্প। ধীরে ধীরে এসে পাড়ব জমাতে থাকে বিদেশী ক্রেতারা। বিশ্ববাজারে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশের পোষাক শিল্প।

কথায় আছে, সব ভালরই মন্দ আছে জীবন চলার পথে যেমন কোন না বাঁধা থাকে তেমনি পোষাক শিল্পেরও কোন ব্যতিক্রম ঘটেনি। ২০১৩ সাথে সাভারে রানাপ্লাজা ধসের মধ্য দিয়ে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক নিহত হয় এবং আহত হয় আরো কয়েক হাজার শ্রমিক। এমন খবর তো আর চেপে রাখার নয়। গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এ খবর। তাারই প্রভাব এসে পড়ে বাংলাদেশের পেষাক শিল্পের উপড়। সরকারিভাবে চলে পোষাক শিল্প গড়ে ওঠা ভবনগুলোর তল্লাশি, তারি সূত্র ধরে বন্ধ করে দেওয়া হয় শত শত গার্মেন্ট কারখানা। মুখ ফিরিয়ে নিতে হয় বিদেশি ক্রেতাদের। এর পূর্বে সাভারের আশুলিয়ায় তাজরিন ফ্যাশন গার্মেণ্টে ভয়াবহ আগুন লেগে ১১২ নিহত হয় এরকম কয়েকটি ঘটনা ঘটার মধ্য দিয়ে পোষাকশিল্পে অনেকটাই প্রভাব পড়ে। যার ফলে ছোট ছোট গার্মেন্টস গুলো একে একে বন্ধ হতে থাকে। বিজিএইম এর তথ্য মতে, সংগঠনটির নিবন্ধিত তৈরি পোষাক কারখানার সংখ্যা হচ্ছে ৬ হাজার ১৯৬ টি। এর মধ্যে ভিবিন্ন সময়ে ভিবিন্ন কারণে ১ হাজার ৭৬৫ টি কারখানা বন্ধ করা হয়েছে। এখনো প্রতিদিন দুই-একটি করে কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যেসব করখানা বন্ধ হচ্ছে তার বেশির ভাগই অঘোষিতভাবে। শ্রমিকরা পূর্বের মত কাজ করতে এসে দেখছে কারখানায় তালা ঝুলানো। মালিক পক্ষের কোন খোঁজ নেই। এসব শ্রমিকরা কখনো কখনো হতাশা নিয়ে নিয়ে বাসায় ফিরছেন আবার কখনো কখনো দলবেঁধে জড়ো হচ্ছে বিজিএইমএ অফিসের সামনে। খাবর নিয়ে জানা যায় এসব শ্রমিদের বেশির ভাগই এক-দুই মাসের করে বেতন আটকে ছিল। তাদের মধ্যে অনেকে কাটাচ্ছে বেকারত্বের জীবন। আবার কেউ কেউ অন্য কোথাও তাদের জায়গা করে নিয়েছে।

সরকারিভাবে গার্মেন্টস শ্রমিদের বেতন স্কেল ৫৩০০ করা হলেও সেটা ঐভাবে এখনো কার্যকরী হয়নি। কোন কোন কারখানায় এখনো দুই-তিন হাজার টাকা বেতনে কাজ করতে হচ্ছে।




২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিনত করার ডে স্বপ্ন আমরা দেখছি, সেটি বাস্তবায়নের জন্য এই শিল্পের যথাযথ পরিচর্যা করার কোন বিকল্প নেই। গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকার এবং সমাজের উঁচু শ্রেণী মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে। গার্মেন্টস বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক্রমে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক বিশ্লেষণ করে দীর্ঘমেয়াদী ভিষন ও পরিকল্পনা প্রণয়নন এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ শিল্পেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।


বিএমটিআই নিউজ /এন এস

আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
০২ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
ভালো আছি! চশমাটা এই নিয়ে তিনবার ভাঙলো,তাও ভালো ফ্রেম, তাপ্তি দেওয়া যায়,যদি কাঁচ হতো ! শীতে একটা সোয়েটারের খুব দরকার,না থাক! এখন বিস্তারিত
৩০ ডিসেম্বর ২০১৭
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
উৎসবমুখর পরিবেশে ১৯ বছর পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে সিনেট রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচন-২০১৭। মোট ২টি কেন্দ্রে ১১৪টি বুথে সকাল বিস্তারিত
২৪ ডিসেম্বর ২০১৭
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
সুন্দর স্বপ্নকে কিভাবে প্রয়োজনীয় সুশিক্ষার মাধ্যমে সুযোগে পরিণত করা যায়, তা জানাতেই ড্রিম ডিভাইজার টিম কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে, ২৩ ডিসেম্বর, বিস্তারিত
© স্বত্ব বিএমটিআইনিউজ ২০১৫ - ২০১৭
সম্পাদক :
মিঞা মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : শাহআলম শুভ
৩৭৩,দিলু রোড (তৃতীয় তলা)মগবাজার, ঢাকা-১২১৭
ফোন: ০২৯৩৪৯৩৭৩, ০১৯৩৫ ২২৬০৯৮
ইমেইল:bmtinews@gamil.com