প্রকাশিত: দুপুর ১২ টা ০৯ মিনিট, ১১ জুলাই ২০১৭, মঙ্গলবার | আপডেট: দুপুর ১২ টা ০৯ মিনিট, ১১ জুলাই ২০১৭, মঙ্গলবার
এবিএম সোলায়মান
এক সময় মানুষ পৃথিবী থেকে আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে আকাশের বিশালতা দেখে অভাগ হত। বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তির উন্নতির ফলে মহাকাশযান এবং শক্তিশালী টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাবিশ্বের বিশালতা দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন।
আমরা যে পৃথিবী নামক গ্রহে বসবাস করি সেটা সৌরজগতের মাঝারি একটি গ্রহ, এর অবস্থান সৌরজগতের ৮টি গ্রহের মধ্যে তৃতীয় যার ব্যস মাত্র ১২,১০৪ কি. মি.। সৌরজগতের কেন্দ্র হচ্ছে সূর্য, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ১৩ লক্ষ গুন বড়। সূর্যকে কেন্দ্র করেই প্রতিটি গ্রহ-উপগ্রহ তাদের নিজস্ব কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করছে।
সূর্য হচ্ছে পৃথিবীর সবচাইতে নিকটতম নক্ষত্র যার দূরত্ব পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। তাই এত বিশাল সূর্যকে আমরা এত ছোট দেখতে পাই। সূ্র্যের পরের নিকটতম নক্ষত্র হচ্ছে পক্সিমা সেণ্টুরাইল যার দূরত্ব পৃথিবী থেকে ৪.৩ আলোকবর্ষ। এক আলোকবর্ষ সমান আলো এক সেকেণ্ডে যায় ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল, এভাবে আলো একবছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোকবর্ষ হিসেব করা হয়। আমরা মহাশূন্যে খালি চোখে যেসকল তারকারাজি দেখতে পাই এগুলোর সবই হচ্ছে নক্ষত্র। আমরা এটাও জানি যে, গ্রহ-উপগ্রহগুলোর নিজস্ব কোন আলো নেই এরা নক্ষত্র থেকে আলো পেয়ে আলোকিত হয়। তাই আমরা খালি চোখে যা দেখতে পাই সবই নক্ষত্র। তাহলে বুঝতেই পারছেন নক্ষত্রগুলো কত দূরে অবস্থিত।
আমরা রাতের বেলা পরিক্ষার আকাশে উত্তর-দক্ষিন বরাবর যে ঘন তারকারাজির সন্নিবেশ দেখতে পাই, সেটার নাম হচ্ছে গ্যালাক্সি। গ্যালাক্সিতে রয়েছে নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ, ধূমকেতু, গ্রহানু, এবং অসংখ্য ধূলিকণার বিশাল সমাবেশ। বিজ্ঞানীদের ধারণা মতে, একেকটি গ্যালাক্সিতে রয়েছে অন্তত ২০০ বিলিয়ন নক্ষত্র। এসব নক্ষত্রের মধ্যে কোন কোনটা এতই বড় যে, যার আয়তন সূর্যের চেয়ে লক্ষ গুণে বড় এবং উজ্জল। এপর্যন্ত মহাশূন্যের সবচাইতে বড় যে নক্ষত্রটিকে হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে তার নাম হচ্ছে বিবি পি ট্র। এই নক্ষত্রটি থেকে পৃথিবীতে আলো পৌঁছাতে সময় লাগে ২৫ হাজার বছর। এটি আমাদের সূর্য থেকে ১ লক্ষ ১৫০ গুন বড়। এবং এটির উজ্জতা ও সূর্যের চেয়ে ১০ মিলিয়ন গুনে বেশি।
আমরা যে ছায়াপথে বসবাস করি তার নাম হচ্ছে, মিল্কিওয়ে। মহাবিশ্বের ১০ লক্ষ কোটি ছায়াপথের একটি মাত্র। আমাদের এই মিল্কিওয়ের ব্যস হচ্ছে ১ লক্ষ আলোকবর্ষ। অথাৎ আপনি যদি আলোক গতিতেও যান তারপরও তা অতিক্রম করতে সময় লাগবে ১লক্ষ বছর। এই হচ্ছে আমাদের দৃশ্যমান মহাবিশ্ব। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্বের ব্যাস হচ্ছে ৯৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। বিশাল এই মহাবিশ্বের ৭০ভাগ জায়গায় হচ্ছে ফাঁকা। আমরা সবমিলে মহাকাশ সম্পর্কে যতটা জানতে পেরেছি তা হচ্ছে, সমুদ্রতীরের বিশাল বালিকণার মধ্যে একটি মাত্র বালিকণার সমান। এবং মহাকাশ বিজ্ঞানীরা এপর্যন্ত যতগুলো তারকার সন্ধান পেয়েছে তা মোট তারকার ৪ শতাংশ। বাকী ৯৬ শতাংশ তারকার সন্ধান এখনো মেলেনি। এই হচ্ছে আমাদের মহাবিশ্বের বিশালতা। তারপরও এখানেই শেষ নয় বর্তমান মহাকাশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমরা যে মহাবিশ্বে বসবাস করি তার বাহিরেও নাকি রয়েছে অসংখ্য মহাবিশ্ব। যার সন্ধান এখনো মেলেনি, এসব মহাবিশ্ব বিগ ব্যাং বা মহাবিষ্ফুরণের পর থেকে অনেক অনেক দূরে সরে গেছে যার কারণে তাদের সম্পর্কে এখনে সেভাবে জানা যাচ্ছেনা। অদূর ভবিষ্যতে আরো উন্নত যন্ত্রপাতি তৈরি হলে সেসকল মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানতে পারবে বলে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা ধারণা করছে।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
অতি উৎসাহী অনুগামী কী কী করতে পারে? তা সিনেমার পর্দায় একাধিকবার উঠে এসেছে। তারকাদের জীবনেও এ ঘটনা নতুন নয়। ভালবাসার এই বিস্তারিত
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের ভাউড়িরচর গ্রামের জামাল হোসেনের ছাগলের খামারে আগুন লেগে প্রায় দেড়শত ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৮ জানুয়ারী) বিস্তারিত
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
তারুণ্যদীপ্ত নাট্যসংগঠন "নাট্যদল" টি.এস.সি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর-ই সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান স্বরুপ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সন্মাননা প্রদান করে থাকেl এরই ধারাবাহিকতায় বিস্তারিত
© স্বত্ব বিএমটিআইনিউজ ২০১৫ - ২০১৭
সম্পাদক :
মিঞা মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : শাহআলম শুভ
৩৭৩,দিলু রোড (তৃতীয় তলা)মগবাজার, ঢাকা-১২১৭
ফোন: ০২৯৩৪৯৩৭৩, ০১৯৩৫ ২২৬০৯৮
ইমেইল:bmtinews@gamil.com