প্রকাশিত: বিকাল ৩ টা ৫১ মিনিট, ২০ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার | আপডেট: বিকাল ৩ টা ৫১ মিনিট, ২০ জুন ২০১৭, মঙ্গলবার
পাপন সরকার শুভ্র ( রাজশাহী ) :
ভারত থেকে আসা পাথরবাহী একটি লম্বা ট্রেন শুক্রবার ভোরে বিপরীত থেকে আসা আরেকটি ট্রেনকে ক্রসিং দিতে রাজশাহীর পবার শিতলাই স্টেশনে দাঁড়িয়ে পড়ে। এসময় একটি বগি থেকে এক এক করে নেমে পড়ে কালোমুখের বিভিন্ন বয়সী ১২টি হনুমান। হনুমান পরিবারটির কর্তার পেছনে থাকা হনুমানগুলো দ্রুতই আশ্রয় নেয় স্টেশনের আশপাশের বাড়ির ছাদ আর গাছের ডালে। এরপর থেকে হনুমানগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে শিতলাইসহ আশে-পাশের গ্রামগুলোতে। স্থানীয়রা জানায়, হনুমান দলটি হয়তো ভেবেছিল ট্রেনে চড়ে তাদের ভ্রমণটা ভালোই হবে। তবে তারা হয়তো জানে না ট্রেনে চেপে তারা এক দেশ থেকে আরেক দেশে চলে এসেছে।

প্রসঙ্গত, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার সিঙ্গাবাদ থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর স্টেশন দিয়ে ভারতীয় মালবাহী ট্রেন আসা-যাওয়া করে নিয়মিত। শুক্রবারও এমন একটি ট্রেন আসে মালদহ থেকে রহনপুর হয়ে। পদ্মা সেতুর সব পাথরই ট্রেনযোগে এ পথে আসছে। রোববার সকালে পবা উপজেলার শিতলাই গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, শুক্রবার থেকে ভারতের ১২ সদস্যের এ হনুমান পরিবারটি রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও পবা উপজেলার কয়েকটি গ্রামে অবস্থান করছে। গাছে গাছে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে, দাঁত খিচিয়ে ভেংচি কাটছে, আবার কেউ কোনো খাবার দিলে তাও খাচ্ছে। প্রায় বিপন্ন প্রজাতির এ হনুমানগুলো দেখতে রীতিমতো ভিড়ও জমে যাচ্ছে এলাকায়। শনিবার বিকালে পবার দামকুড়াহাট এলাকার রবার্ট মুর্মুর বাড়িতে গিয়ে চারটি হনুমান দেখা যায়। একটি হনুমান বসে ছিল তার বাড়ির টিনের ছাদে। রবার্ট জানান, গ্রামের কয়েকটি বাড়ি রঘুরে ঘণ্টা দুয়েক আগে হনুমানগুলো তার বাড়িতে এসেছে। কারণ গ্রামে আসার পর থেকে রবার্ট হনুমান পরিবারটিকে খাবার দিচ্ছেন। রবার্ট বলেন, ‌‍‍‍কলা, পাউরুটি ও পানি দিচ্ছি। সবই খাচ্ছে। ক্ষুধার্ত এসব হনুমান গ্রামে আসার পর থেকেই খাবার পাচ্ছে অনেক। গাছে গাছে পাকা আমও খাচ্ছে নিজেদের মতো করে। লোকজন দেখার জন্য আসছে গ্রামে। শহর থেকেও লোক আসছে হনুমান দেখতে। কেউ কেউ বিরক্ত করছে এগুলোকে। রবার্ট মুর্মুর জানালেন, অতিথি হনুমানগুলোকে কেউ যাতে বিরক্ত না করে সেজন্য ব্যবস্থা নিতে তিনি স্থানীয় ইউপি মেম্বার ইব্রাহিমের সাহায্য চেয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেল পবার শিতলাই, কাদিপুর, রায়পাড়া ও গোদাগাড়ীর আলোকছত্র গ্রামে আরও ৮টি হনুমান অবস্থান করছে। আলোকছত্র গ্রামের ফিরোজ কবির বলেন, হনুমানগুলোর মুখ কুচকুচে কালো। কেউ কাছে গিয়ে ছবি তোলার চেষ্টা করলেই দাঁত খিচিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। তবে এ গ্রামটি হনুমানগুলোর পছন্দ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

শিতলাই গ্রামের মজিবর রহমান বলেন, ‘শুক্রবার ভোরে বাড়ির সামনে বসে ছিলাম। তখন রেললাইনে একটি ট্রেনকে ক্রস করার জন্য ভারত থেকে আসা পাথরবাহী ট্রেনটি শিতলাই স্টেশনে দাঁড়িয়েছিল। এ সময় একটি খালি বগি থেকে এক সঙ্গে নেমে এল ১২টি হনুমান। তারপর এগুলো বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে গেছে।’ এ গ্রামের আবদুর রাকিব জানালেন, রহনপুর স্থলবন্দর দিয়ে ট্রেনযোগে ভারত থেকে পাথর আমদানি করে বাংলাদেশ। পাথরের ট্রেনে চড়ে মাঝে মাঝেই ভারতীয় হনুমান এসব এলাকায় আসে। বিরক্ত হলে আবার চলে যায়। রাকিব বলেন, উপযুক্ত পরিবেশ এবং খাবারের অভাবে ভারত থেকে আসা হনুমান মারাও যায় মাঝে মাঝে। কিন্তু সেগুলো উদ্ধার করে না বন বিভাগ। এসব হনুমান উদ্ধার করে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক একেএম রুহুল আমিন বলেন, হনুমানরা সাধারণত এক পরিবার এক সঙ্গে থাকে।তাদের একসাথে ধরা কখনো সম্ভব নয় এবং কষ্টসাধ্য। তবে কেউ একটা- দুটা হনুমার ধরে রেখে খবর দিলে তা উদ্ধার করে নিয়ে আসা হবে। তবে নতুন আসা হনুমান পরিবারটির খোঁজখবর রাখা হবে বলে জানান তিনি।




বিএমটিআই নিউজ / এন এস



আপনার মন্তব্য
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
অতি উৎসাহী অনুগামী কী কী করতে পারে? তা সিনেমার পর্দায় একাধিকবার উঠে এসেছে। তারকাদের জীবনেও এ ঘটনা নতুন নয়। ভালবাসার এই বিস্তারিত
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের ভাউড়িরচর গ্রামের জামাল হোসেনের ছাগলের খামারে আগুন লেগে প্রায় দেড়শত ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৮ জানুয়ারী) বিস্তারিত
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
তারুণ্যদীপ্ত নাট্যসংগঠন "নাট্যদল" টি.এস.সি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর-ই সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান স্বরুপ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সন্মাননা প্রদান করে থাকেl এরই ধারাবাহিকতায় বিস্তারিত
© স্বত্ব বিএমটিআইনিউজ ২০১৫ - ২০১৭
সম্পাদক :
মিঞা মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : শাহআলম শুভ
৩৭৩,দিলু রোড (তৃতীয় তলা)মগবাজার, ঢাকা-১২১৭
ফোন: ০২৯৩৪৯৩৭৩, ০১৯৩৫ ২২৬০৯৮
ইমেইল:bmtinews@gamil.com