প্রকাশিত: সন্ধ্যা ৬ টা ৪৩ মিনিট, ০৭ জুন ২০১৭, বুধবার | আপডেট: রাত ৯ টা ৩৪ মিনিট, ০৯ জুন ২০১৭, শুক্রবার
মোঃ রাজন শিকদার
একটি সময় মরণব্যাধি ও আতঙ্কের রোগ হিসেবে পরিচিত ছিলো যক্ষা রোগটিকে নিয়ে ছিলো নানা কুসংস্কার। কোন পরিবারে এই রোগ হলে সেখানে নেমে আসতো দুশ্চিন্তা আর কুসংস্কার। তবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণে পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। যক্ষা রোগে আক্রান্ত হলে এখন আর ভয়ের কিছুই নেই। নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে সম্ভব এই রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় করা। তবে,উদ্বেগের কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে না পারা, অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে এ রোগে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশুদের আক্রান্তের সংখ্যা।



রাজধানীর মহাখালিস্থ টি.বি. হাসপাতালে যক্ষা রোগের চিকিৎসা নিচ্ছে কিশোরী হেলেনা (১৩)। নিজের এই অসুস্থ্যতা প্রসঙ্গে সে জানায়, ‘‘ আমার বাড়িতে একজন লোক ছিলো। যার এই রকম একটা রোগ ছিলো। সে সারাদিন শুধু কাঁশতো আর বিকেলে হলে জ্বরে শুয়ে থাকতো। তার সেবা করার জন্য আমার এই রকম হতে পারে।’’
জ্বর আর মাথা ব্যাথার চিকিৎসকের সরণাপন্ন হয়েছিলো শিশু রুবেল (৯)। পরীক্ষা-নিরিক্ষার পরে ধরা পরে এমডিআর। রুবেলের মা বলেন, ‘‘ মাদ্রাসায় পড়তো। সেখান থেকেই জ্বর আরাম্ভ হয়েছে আরকি।’’

জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৬৮ জনের মধ্যে শিশু যক্ষা রোগি ছিলো ৬ হাজার ২৬২ জন।



২০১৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ১ জনের মধ্যে ৭ হাজার ৯৮৪ জন।
অর্থাৎ, ১ বছরে শিশু রোগী বেড়েছে ১ হাজার ৭২২ জন।
২০১৪ সালে যেখানে শিশু রোগী শনাক্তের হার ছিলো ৩.৩৫ শতাংশ। ২০১৫ সালে এই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ শতাংশে।


যক্ষা রোগে শিশুরোগীদের বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ২৫০ শয্যা টি.বি হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘‘ আমাদের বর্তমান ন্যাশনাল গাইড লাইনে যে ডাটা দেয়া আছে সে অনুসারে দেখা যায়, শিশুদের মধ্যে এই যক্ষা রোগীর হার প্রায় দশ শতাংশ। কিন্তু আমরা এটা নির্ণয় করতে পারি দুই-তিন শতাংশ। বাচ্চাদের মধ্যে যক্ষার হার বেড়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ, তাদের যক্ষা এটা নির্ণয় করাটা কঠিন। অনেক বাচ্চাই আসলে কাশি দিতে পারে না। সেক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় করাটা কঠিন। বুকের এক্সরেতে যক্ষা রোগির যে লক্ষণ থাকার কথা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সেগুলো থাকে না। এরা অধিকাংশই পুষ্টিহীনতায় ভুগে। যক্ষা রোগে আক্রান্ত হয়েছে কিনা তা বোঝার জন্য যে টিকা পরীক্ষা দিয়ে থাকি কিন্তু পুষ্টিহীনতার কারণে ওই টিকার রেজাল্ট নেগেটিভ আসে।এ কারণে যক্ষা রোগটা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে ডায়াগনোসিস করাটা একটু কঠিন।’’



যক্ষা রোগে আক্রান্তদের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা থেকে শুরু করে রয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। এ বিষয়ে জাতীয় যক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রের সমাজসেবা অফিসার মাহফুজা পারভীন চৌধুরী জানান, ‘‘ যখন ডায়াগনোসিস করার পর ধরা পড়ে শিশুটি যক্ষায় আক্রান্ত তখন এটি সমাজকল্যাণে রেফার্ করে দেয়া হয়।এরপর আমরা এখানে রোগীটিকে মোটিভেশন ও দেই।শিশুদের মায়েদের বলি শিশুকে নিরাপদে রাখার জন্য।

২৫০ শয্যা টি.বি হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্টে ডাঃ মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান আকন্দ বলেন, চিকিৎসাসেবা প্রসঙ্গে কোন ওষুধ রোগির কিনতে হয় না ।যতদিন চিকিৎসা চলবে, বিনা পয়সায় রোগীর পরীক্ষা-নিরিক্ষা করা হয় এবং ওষুধও দেয়া হয়।’’ কিন্তু এরপরেও যক্ষা রোগে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক শিশু রোগীই ওষুধের কোর্স সম্পূর্ণ করেনা। মাঝ পথে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয় অনেকেই। এর কারণ হিসেবে অনেকটাই দায়ী অভিভাবকদের অসচেতনতা ।

সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য একটি রোগ যক্ষা। শিশুদের মাঝে এ রোগের বিস্তার রোধে প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি এমনটাই মনে করছেন বিশিষ্ট জনেরা।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
অতি উৎসাহী অনুগামী কী কী করতে পারে? তা সিনেমার পর্দায় একাধিকবার উঠে এসেছে। তারকাদের জীবনেও এ ঘটনা নতুন নয়। ভালবাসার এই বিস্তারিত
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের ভাউড়িরচর গ্রামের জামাল হোসেনের ছাগলের খামারে আগুন লেগে প্রায় দেড়শত ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৮ জানুয়ারী) বিস্তারিত
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
তারুণ্যদীপ্ত নাট্যসংগঠন "নাট্যদল" টি.এস.সি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর-ই সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান স্বরুপ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সন্মাননা প্রদান করে থাকেl এরই ধারাবাহিকতায় বিস্তারিত
© স্বত্ব বিএমটিআইনিউজ ২০১৫ - ২০১৭
সম্পাদক :
মিঞা মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : শাহআলম শুভ
৩৭৩,দিলু রোড (তৃতীয় তলা)মগবাজার, ঢাকা-১২১৭
ফোন: ০২৯৩৪৯৩৭৩, ০১৯৩৫ ২২৬০৯৮
ইমেইল:bmtinews@gamil.com