প্রকাশিত: সন্ধ্যা ৬ টা ২৪ মিনিট, ০৪ জুন ২০১৭, রবিবার | আপডেট: সন্ধ্যা ৬ টা ২৪ মিনিট, ০৪ জুন ২০১৭, রবিবার
হোসনে আরা জালালী
নারী যেখানে সরাসরি সৃষ্টির মাধ্যম সেই নারীকেই এ সমাজ কূলটা রক্ষিতা,পতিতা, বেশ্যা ইত্যাদি নামে ধিক্কার দেয়। এখানে মা শব্দটি সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করা হয়। নারী কিংবা পুরুষ এই যে প্রভেদ তা মুধু নির্ণয়ের কারণ। নির্মানকর্তা নির্মান করেছেন মানুষ। নির্ণয়ের ভার মানুষের। আর নির্ণয়ের মূলাধার হচ্ছে জ্ঞান। এই জ্ঞান বেদেহী কিন্তু ‘ জ্ঞানের সৃষ্টি অবশ্যই আকারে এবং সাকারে স্বরুপে স্বপ্রকাশে বিরাজিত। সুন্দর সৃষ্টি জ্ঞানের কর্ম-যা-ধর্ম। ধর্মের পূর্বশর্তই হচ্ছে সুন্দর এবং পবিত্রতা। আর অপবিত্র তাই হচ্ছে অর্ধম। কোন ধর্মের পূর্বশর্ত নিয়ে এই বেশ্যালয়/ পতিতালয় সৃষ্টি হয়েছে? কারা এই পতিতাদের সঙ্গধারী ? নারী নামধারী মানুষটিকে যদি পতিতা বলা হয় তবে পতিতার সঙ্গধারী পুরুষটিকে কি নামে আখ্যায়িত করা হবে? পতিতালয়কে স্বীকৃতি দিয়ে পতিতাদের সমাজচ্যুত করা হয়, গৃহ বন্দী করা হয়, নজর বন্দী করা হয় আর যারা পতিতালয়ে যায়, পতিতাদের দেহভোগ করে, তাদের স্থান কোথায়? হে ধর্ম, হে ধর্মাবতার! হে পতিতপাবন! কেন এই অবিচার ? পুরুষ মনের বিকৃত লালসাই হচ্ছে পতিতালয়। পতিতপাবনের কাছেই বা কি আবেদন রাখব,তার প্রেরিত সমস্ত ধর্মাবতারই হচ্ছে পুরুষ।পতিতালয়ে পতিতা নামধারী প্রানীকে একঘরে বন্দী করে তাদের উপর পাশবিক নির্য়াতন করা হয়। পুরুষ গুলি কিš‘ জানে না, আজ যে পতিতা নামধারী নারীর সঙ্গে মিলিত হচ্ছে সে হতেও পারে তারই ঔরষজাত সন্তান। এই হইল প্রগতিশীল বিশ্ব। এখানে রাষ্ট্রের ধর্ম কোথায় ? মানবতা যেখানে বিবর্জিত, সেখানে সৃষ্ট ধর্মই বা কোথায়? মানুষের জন্যই তো ধর্ম,না ধর্মের জন্যই মানুষ? যেখানে অনিষ্ট,ধর্ম সেখানে নষ্ট। কল্যান যেখানে আছে, ধর্মও সেখানে আছে। সারা বিশ্বব্যাপীয়া প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ আইয়্যামে জাহিলিয়াতা যুগ। শুধু পট পরিবর্তন। জ্ঞানের বাহাদুরীর কারণে সুন্দর সুন্দর ইমারত তৈরী করে ভিতরে হচ্ছে পৈশাচিক আচরন। সার্বিকভাবে বিশ্বব্যাপিয়া সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, ভোগবাদী উন্মাদনা আর আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতার সুন্দর সামাজিক বন্ধন ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছে । মহাজনের ভাষায় “জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হউক ভাল।” কিš‘ বাস্তবতা কি বলে শুধু ভোগের সামগ্রী পতিতা নামধারী মা যখন গর্ভধারিণী হয়ে সন্তান প্রসব করল সেই সন্তানটি সমাজের মানব স্বীকৃতি না পেয়ে স্বীকৃতি পেল জারজ। সে হলো সমাজে অবাঞ্চিত, অবহেলিত। সর্বোপরি যারা জন্ম দিল তাদের করুনার পাত্র। এখানে একটি বিস্ময়কার বিষয় হচ্ছে যা অত্যন্ত মর্মপীড়াদায়ক। এই পতিতালয়ে সুন্দরী কন্যা সন্তানের অনেক আদর। আর পুত্র সন্তান হলে হয় অনাদারে, অবহেলার মারা যায় নতুবা একটু বড় হলে টোকাই নামে সমাজে অবহেলিত হয়। কোন জনমের অপরাধে মানবকূলে জন্ম হয়ে তার এই শাস্তি? ইসলাম ধর্মেতো পূণঃজন্ম নাই। তবে মুসলিম রাষ্ট্রে কেন পতিতালয় থাকবে? এখানে আমার প্রশ্ন - কোন সম্প্রদায়ের মানুষগুলি যায় এই পতিতালয়ে ? কাদের বীর্যে সৃষ্টি হয় এই জারজ নামধারী সন্তান? একটু বড় হলে যখন ওদের বোধের উদয় হয় তখন নিজেকে ওরা অবাঞ্চিত জেনে সমাজের যত অনাচার, কদাচারে লিপ্ত হয়। সমাজে পচঁন ধরে । যাদের কারণে সমাজ পচঁন ধরে তারাই আবার ওদের নিয়ে বড় বড় শিরোনাম তৈরী করে সমাজপতি সেজে সমাজের কিংবদন্তী হয়ে যায়। স্ত্রী হয়ে যারা সংসারে আছে, তারা অনেকেই কিš‘ সেই নষ্ট মানুষটির শয্যাসঙ্গী। (দুঃখের বিষয় হল, সেই নষ্ট মানুষটি নির্দ্বিধায় একই বিছানায় শুয়ে স্ত্রীর সঙ্গে গল্প করে যায়, কতজন নারীর সঙ্গ সে করেছে, প্রেমের নামে কত নারীর সঙ্গে সে প্রতারনা করেছে, এমনকি সে কতবার পতিতালয়ে গিয়েছে। পক্ষান্তরে এই সমাজে একটি নারীও যদি সাহস করে বলে আমি একজন পুরুষের সঙ্গ করেছি, তৎক্ষনাৎ তালাক প্রাপ্ত হবে।) হায় রে ধর্ম প্রদত্ত বানী “মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত।” টোকাই তোমরা কি চিনো, তোমাদের মাকে? আছে কি ঠাঁই মায়ের কাছে তোমাদের ? তবে চিৎকার করে বলো - হে ধর্মাবতার, হে সমাজপতি, হে রাষ্ট্র ,হে পতিতপাবন তোমরা আমাদের মাকে দাও। আমরা মায়ের চরণ চাই। আমরা বেহেস্ত চাই। না হয় বলে দাও আমাদের কি পাপ; কিভাবে হবে আমাদের প্রায়শ্চিত্ত।
আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
অতি উৎসাহী অনুগামী কী কী করতে পারে? তা সিনেমার পর্দায় একাধিকবার উঠে এসেছে। তারকাদের জীবনেও এ ঘটনা নতুন নয়। ভালবাসার এই বিস্তারিত
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের ভাউড়িরচর গ্রামের জামাল হোসেনের ছাগলের খামারে আগুন লেগে প্রায় দেড়শত ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৮ জানুয়ারী) বিস্তারিত
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
তারুণ্যদীপ্ত নাট্যসংগঠন "নাট্যদল" টি.এস.সি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর-ই সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান স্বরুপ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সন্মাননা প্রদান করে থাকেl এরই ধারাবাহিকতায় বিস্তারিত
© স্বত্ব বিএমটিআইনিউজ ২০১৫ - ২০১৭
সম্পাদক :
মিঞা মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : শাহআলম শুভ
৩৭৩,দিলু রোড (তৃতীয় তলা)মগবাজার, ঢাকা-১২১৭
ফোন: ০২৯৩৪৯৩৭৩, ০১৯৩৫ ২২৬০৯৮
ইমেইল:bmtinews@gamil.com