নিজস্ব প্রতিবেদক: গাজীপুরের টঙ্গীতে গত ২৬ এপ্রিল শিলমুন এলাকায় আব্দুল হাকিম মাস্টার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির তিন ছাত্রী পরীক্ষা শেষে স্কুল থেকে বাসায় ফিরছিল। এসময় স্কুল গেটের বাইরে চারব খাটে একছাত্রীকে উক্ত্যক্ত করে এবং অপর এক বখাটে ওই ছাত্রীকে চড় থাপ্পড় দেয়। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীর হাত ধরে টানা হেচড়া করে এবং শ্লীনতাহানীর চেষ্টা চালায়। এই ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার টঙ্গী মডেল থানায় সাত বখাটের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তিআইনে মামলা করেন ছাত্রীর বাবা। এ ঘটনায় ইমন, সুজন ও সাগর নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করলেও মামলার প্রধান আসামিদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। অথচ আসামি অনিক, শিহাব ও ফাহাদ প্রকাশ্যেই এলাকায় ঘুরে বেরাচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল ওই ছাত্রীর বাবাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্কুলের অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী। এর আগে ছাত্রীকে উক্ত্যক্তের দৃশ্য মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে আপলোড দিলেভিডিও টিভাইরাল হয়ে গেলে নড়েচড়ে বসে স্কুলকমিটি ও প্রশাসন। এ ঘটনায় পরদিন স্কুলে সংশ্লিষ্টছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবক ও স্কুলকমিটির সভাপতি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিনের উপস্থিতিতে ওইবখাটেদের বেত্রাঘাতের শাস্তি দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, কাউন্সিলর হেলালউদ্দিন হেলাল প্রশাসনকে পাশকাটিয়ে নিজেই বিভিন্ন স্বার্থে আপস-মীমাংসা করে থাকেন। ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের ঘটনাটিও তিনি সেভাবেই মীমাংসা করতে চেয়েছিলেন। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই খবর প্রকাশ হলে সেটি আর করে উঠতে পারেননি। স্কুলের বেশ কয়েক জন অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, তবে ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তরা স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের সন্তান হওয়ায় এ ঘটনায় সুষ্ঠ বিচার হয়নি। স্কুলের অভিভাবক সদস্য রুবি আক্তারের ছেলে প্রধান আসামি অনিক এবং স্কুলের ভার প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান মনিরের ছেলে দশম শ্রেণির ছাত্র শিহাব দৃশ্য মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করে। পরে তাদের মধ্যে একজন এই ভিডিও ফেস বুকেআপলোড দিয়েকয়েক ঘণ্টা পর তুলে নেয়। এই মামলার অপর আসামি ফাহাদও স্থানীয় একপ্রভাবশালীর ছেলে। ফাহাদের মা কানিজ ফাতেমা ময়না স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতার মেয়ে এবংও ই স্কুল কমিটির এক জন সদস্য। এই তিন জনকে মামলার এজাহার ভুক্ত করায় বিপাকে পড়েছেন মামলার বাদী আল ইমরান শেখ। বিভিন্ন প্রকারভয়-ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে মামলা তুলে নিতে ইমরান শেখকে হুমকিদিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা টঙ্গী মডেল থানার এসআই নিতাই চন্দ্র দাস বলেন, মামলা করার সাথে সাথেই আমরা অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি। মামলার প্রধান আসামি অনিক শিহাব ও ফাহাদকে গ্রেপ্তারেও নিয়মিত অভিযান চলছে। এটি একটি আলোচিত ঘটনা তাই আমরা কোন প্রভাবশালীর চাপে আসামীদের ছাড় দেব না। টঙ্গীমডেল থানার ভার প্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.ফিরোজ তালুকদার বলেন, আমরা এই মামলাটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। মামলার প্রধান আসামিরা যতই প্রভাবশালী হোক তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হবে।



 

আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
২০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
একটা নদী উপহার পেয়েছি রটনার মত ছড়িয়ে যাচ্ছে , গুজব না সত্যি ! আমার একটা নদী আছে যদিও আমি নদী চাইনি চেয়েছি চাঁদ , তবু নদীই পেলাম বিস্তারিত
২০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এক গৃহবধু দেবর ও ভাশুরের নির্যাতন, হয়রানিমূলক মামলাসহ বিভিন্ন কুৎসার হাত থেকে নিজের পরিবারের সদস্যদের বাঁচাতে সংবাদ সম্মেলন বিস্তারিত
২০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
ড্রিম ডিভাইজারের নিজস্ব উদ্ভাবিত স্বপ্ন- সুশিক্ষা- সুযোগ মডেলে সুশিক্ষায় স্বপ্নবুননে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে। সুশিক্ষায় স্বপ্নবুননে বিশেষ আয়োজন হচ্ছে স্বপ্ন-আড্ডা। স্বপ্ন আড্ডার বিস্তারিত
© স্বত্ব বিএমটিআইনিউজ ২০১৫ - ২০১৭
সম্পাদক :
মিঞা মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : শাহআলম শুভ
৩৭৩,দিলু রোড (তৃতীয় তলা)মগবাজার, ঢাকা-১২১৭
ফোন: ০২৯৩৪৯৩৭৩, ০১৯৩৫ ২২৬০৯৮
ইমেইল:bmtinews@gamil.com