শরিফুল ইসলাম (শরিফ):  টাঙ্গাইলের সখীপুরে যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় মেয়ের জামাইয়ের হাতে শ্বাশুরী জহুরা বেগম (৫০) খুনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নলুয়া দক্ষিণ পাড়া গ্রামে। নিহত জহুরা বেগম বাসাইল উপজেলার বাংড়া জোরবাড়ি গ্রামের মেহের আলীর স্ত্রী। স্থানীয় ও পরিবারের অভিযোগে জানা যায়, বাসাইল উপজেলার বাংড়া জোরবাড়ি গ্রামের মেহের আলী ও জহুরা বেগমের একমাত্র মেয়ে মরিয়ম আক্তারের সাথে প্রায় ৮ মাস আগে বিয়ে হয় সখীপুর উপজেলার নলুয়া দক্ষিণ পাড়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে হাসান সজীব রাজিবের। বিয়ের এক মাস যেতে না যেতেই যৌতুকের দাবি আর মারধরের শিকার হন মরিয়ম। স্বামী রাজিব আর তার পরিবার যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময়ই মরিয়মের উপর চালাত নির্যাতন। ২২ নভেম্বর (মঙ্গলবার) বিকেলেও যৌতুকের দাবিতে মরিয়মকে মারধর করেন তারা। মারধরের সংবাদ পেয়ে মরিয়মের বাবা মেহের আলী ও মা জহুরা বেগম মেয়ের শ্বশুরবাড়ী নলুয়া যান। এ সময়ও শ্বাশুরী জহুরা বেগমের সাথে মেয়ের জামাইয়ের কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে মেয়ের জামাই রাজিব তালা দিয়ে শ্বাশুরীর মাথায় আঘাত করে। রাজিবের দেয়া আঘাতে সাথে সাথেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন জহুড়া বেগম। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন। নিহতের স্বামী মেহের আলী জানান, একমাত্র মেয়ে মরিয়মকে ৮মাস আগে সখীপুর উপজেলার নলুয়া দক্ষিণ পাড়া গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে রাজিবের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের সময় তিন ভরি স্বর্ণ দেয়ার কথা ছিল। নগদে দুই ভরি স্বর্ণ দেয়া হয়। এরপর থেকেই বাকি এক ভরি স্বর্ণের দাবি শুরু করে রাজিবের পক্ষ। স্বর্ণ না পেয়ে তারপর থেকে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ও বিদেশ যাওয়ার জন্য তিন দফায় দুই লাখ টাকা দাবি করে রাজিবসহ তার পরিবারের লোকজন। যৌতুকের দাবি পূরণ করতে না পারায় বিয়ের পরই মরিয়মকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ স্বত্তেও মরিয়মকে নিয়ে স্বামীর বাড়ি যায় বাবা মেহের আলী। এরপরও তাড়িয়ে দেয়া হয় মরিয়মকে। সর্বশেষ ২২ নভেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে মরিয়মের বাবা মেহের আলী ও মা জহুরা বেগম মেয়ের শ্বশুরবাড়ি যান। যৌতুকের টাকা না দেয়ায় তাদেরকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখতে হাতে তালা নিয়ে রাজিবসহ বাড়ির অন্যরা তাদের উপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে রাজীবের হাতে থাকা তালার আঘাতে মরিয়মের মা জহুরা গুরুতর আহত হয়। আহত অবস্থায়  জহুরা বেগমকে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ প্রসঙ্গে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ফাতেমা তুজ জহুরা জানান, হাসপাতালে পৌছানোর আগেই তিনি মারা যান। বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, রাতে বাসাইল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স থেকে নিহতের মরদেহ থানায় নিয়ে আসা হয়। বুধবার সকালে ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ঘটনাটি সখীপুর থানার। এ ব্যাপারে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকছুদুল আলম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি। লাশের ময়না তদন্ত শেষে বোঝা যাবে মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য।



বিএমটিআইনিউজ/এস আলম



 

আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
অতি উৎসাহী অনুগামী কী কী করতে পারে? তা সিনেমার পর্দায় একাধিকবার উঠে এসেছে। তারকাদের জীবনেও এ ঘটনা নতুন নয়। ভালবাসার এই বিস্তারিত
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের ভাউড়িরচর গ্রামের জামাল হোসেনের ছাগলের খামারে আগুন লেগে প্রায় দেড়শত ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৮ জানুয়ারী) বিস্তারিত
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
তারুণ্যদীপ্ত নাট্যসংগঠন "নাট্যদল" টি.এস.সি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর-ই সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান স্বরুপ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সন্মাননা প্রদান করে থাকেl এরই ধারাবাহিকতায় বিস্তারিত
© স্বত্ব বিএমটিআইনিউজ ২০১৫ - ২০১৭
সম্পাদক :
মিঞা মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : শাহআলম শুভ
৩৭৩,দিলু রোড (তৃতীয় তলা)মগবাজার, ঢাকা-১২১৭
ফোন: ০২৯৩৪৯৩৭৩, ০১৯৩৫ ২২৬০৯৮
ইমেইল:bmtinews@gamil.com