অন্ধকার ভেদ করে আলো আসে। প্রতিনিয়ত যে আলো প্রস্ফুটিত করে তোলে প্রকৃতিকে। প্রকৃতিও সাদরে গ্রহন করে আলোকে। ঠিক তেমনি প্রতিটি মানুষ, জাতি, গোষ্ঠী সবাই আলোর দেখা পায়। কেউ হয়তো আজ কিংবা পরে। বোধ করি শরতের এই সোনালী ধানের সুগন্ধে বাংলাদেশ অন্ধকার থেকে আলোর মিছিলে শামিল হবে। প্রিয় বাংলাদেশ তার নিজস্ব রূপ বদলাচ্ছে, সৃজনশীল ভাবনায় অন্ধকারকে বিদীর্ন করে আলোর পথ দেখাতে শুরূ করেছে বাংলাদেশ। অতি সম্প্রতি চীনা প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর যেন এক দিগন্ত বিস্তৃত আলোর উৎসব। সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি হিসেবে এই প্রথম তার বাংলাদেশ সফর। যদিও ২০১৩ সালে শি চিন পিং একবার এসেছিলেন তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নয়। সত্যিকার অর্থেই এই সফরকে  যুগান্তকারী বলা যায়।বিশিষ্টজন থেকে গণ মানুষ সবাই এ সফরকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরাও বিনা দ্বিধায় মনে করছেন, প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং এর সম্প্রতি সফর আগের সব সফরের তুলনায় অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।

কেনই বা তাৎপর্যপূর্ণ হবে না, চীন এশিয়া তথা পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ। কেননা যে দেশ অর্থনৈতিক কাঠামো যত মজবুত সে দেশ তত বেশি শক্তিশালী। আর এমন একটি রাষ্টের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রগাঢ় করা কিন্তু মোটেও যত সামান্য বিষয় নয়। অত্যন্ত সৌভাগ্যের, প্রশংসার দাবিদার।

বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিকভাবে খুব নড়বড়ে তাও বলা যাবে না, তবে আস্ফালন করাটাও বেমানান । প্রচুর ইকোনমিক জোন রয়েছে। শুধু উপযুক্ত বা কার্যকরী প্রয়োগের অভাব। আর অভাব থাকবেই বা না কেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন  উদ্বেগ উৎকন্ঠায় বিদেশীরা প্রায়শই গোমরা মুখে ফিরে যায়। সম্ভবনা অপার হওয়া সত্ত্বেও বাস্তবিকতার বেড়াজালে থমকে যায় জয়যাত্রা। অন্ধকারেই রয়ে যায় সামনে বাড়ার শক্তিমত্তাগুলো । তবে জনগণ তার জনসচেতনতাকে কাজে লাগিয়ে প্রিয় বাংলাদেশকে একটি টেকসই দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। বলতে গেলে বাংলাদেশের সাথে চীনের সম্পর্ক ১৯৭৫ সাল থেকে। তখন থেকেই চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। চীনের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বলে এই অঞ্চলের জনগণের প্রতি ব›ধুত্বপূর্ণ মনোভাব পোষণ করেছে। পূর্বে ঢাকা সফর করেছে চো এন লাই, লিও শাও চিসহ প্রমুখ চীনা নেতারা । তবে এইবার চীনা প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।

বাংলাদেশ - চীন সম্পর্ক মোট পাঁচটি নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এগুলো হল -

    শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান

    সুপ্রতিবেশী সুলভ চেতনা

    পারষ্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস

    একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানো



এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিনিয়োগ, শিল্পায়ন, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং সবার জন্য সমৃদ্ধির এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করতে চেয়েছে। অন্তঃদেশীয় যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন মাইল ফলক রচনায় প্রয়াস চালিয়েছে। বোধ করি এতে

সাফল্যও আসবে। আর এভাবেই বাংলাদেশ আলোর দলে যোগ দিবে।



১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ বেইজিং এ প্রথম বাংলাদেশ চীন  মৈত্রী সেতুর চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল । তবে এরপরও অনেক বার উভয় দেশে হর্তাকর্তা ব্যক্তিরা আসা যাওয়া করেছেন ঠিকই, প্রতিশ্রƒতিও হয়েছে বটে, তবে কাজের কাজ তেমন হয়নি।



তবে  এইবার মনে হচ্ছে প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং এর বাংলাদেশের এই সফর আমাদের জন্যে একবিংশ শতাব্দীর দ্বার অনেকাংশেই উন্মোচিত করবে। ইতোমধ্যেই উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সফরকে একটি মাইল ফলক বলে আখ্যায়িত করেছে । চীনের বাংলাদেশে রপ্তানির বার্ষিক মূল্য এখন প্রায় এক হাজার কোটি মার্কিন ডলার।  চীনে বাংলাদেশের বার্ষিক রপ্তানি তার এক দশমাংশ, প্রায় ৮১ কোটি ডলার ছুঁই ছুঁই করছে। আশা তো এই যে, এর মাধ্যমে  আামাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়বে এবং অসমতা অনেকাংশে কমবে।



বাংলাদেশ এখন ‘‘গোল্ড ম্যান স্যাক্স” ( এড়ষফসধহ  ঝধপশং) তালিকায় বিংশ শতাব্দীর ১১ উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তির একটি যার প্রবৃদ্ধি এখন ৭ শতাংশের আশ পাশে আছে ।



এবার বাংলাদেশে চীন প্রেসিডেন্টের  সফরে যা যা হয়েছে  তা নি¤œরূপ -



    বিনিয়োগ ও উৎপাদনে সমতাভিত্তিক সমঝোতা স্মারকের আওতায় ২৭ প্রকল্পে চীনের সহায়তা । এতে মোট ব্যয় ১৯৮০ কোটি মার্কিন ডলার ।

     চীনের ১৩ টি প্রতিষ্ঠানের সাথে বাংলাদেশের ১১টি বেসরকারি ও ২ টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ চুক্তি । মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ হবে ১৩৬০ কোটি মার্কিন ডলার ।

    অবকাঠামো , সড়ক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে  দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য  আর্থিক সহায়তা প্রকল্প ।

    চীনের সাত রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাট, পাটজাত পণ্য, চামড়া ও হিমায়িত খাদ্য রপ্তানির জন্যে ব্যবসায়িক চুক্তি হয়েছে ১৮ কোটি ৬০ লাখ ডলারের। (সূত্র - প্রথম আলো)



দেশ অর্থনৈতিক ভাবে এগিয়ে যাবে এ নিরন্তর স্বপ্নে বিভোর কোটি বাঙালী জাতি। সেই সত্তর দশকের গোড়াতেই হেনরি কিসিঞ্জারের তলাবিহীন ঝুঁড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে দেশের অর্থনীতি এখন অনেকাংশেই বলিষ্ঠ। জনশক্তি ও গার্মেন্টস্ খাতের চোখ ধাঁধানো সাফল্যের পর ওষুধ শিল্পে সাফল্য এসেছে। যদিও বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে বাংলাদেশ এখনো  নি¤œ মধ্যম আয়ের দেশ।  তবে বড় আশা খুব সাম্প্রাতিক ভবিষ্যতে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে শামিল হবে।



এ সফরে সব মিলিয়ে চীনের বিনিয়োগ হবে প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ হলে পাল্টে যাবে দেশের অর্থনীতির চালচিত্র। চীনের এই অর্থ বিনিয়োগ হলে দেশকে বিশ্ব ব্যাংক (ডই), আই. এম.এফ (ওগঋ), এ.ডি.বি (অউই) এর মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। যেমন থাকতে হয়নি পদ্মা সেতু নির্মাণে। চীনের এই বিনিয়োগ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে সাফল্যের চুড়ায়। দেড় বছর আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে মাত্র ২ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি নিয়ে ব্যাপক হৈচৈ হয়েছে। সে তুলনায় চীনের বিনিয়োগ বিশ গুণ বেশি। এসব বিনিয়োগ চুক্তি স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক ভ’মিকা রাখবে। এসব বিনিয়োগে কমে আসবে বাংলাদেশ - চীনের বাণিজ্য ঘাটতিও। উচ্চাশা ছিল বেশ তবে তার আশা পূরণও কম নয়। সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ২৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। তবে যেসব প্রকল্পে চুক্তি হয়েছে তা যেন কোনো জটিলতায় বিলম্ব না হয় সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। আশা করা  যায় দু’দেশের মধ্যে উন্মোক্ত বাণিজ্য চুক্তি এফ.টি.ও কার্যকর হলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে চীনে রপ্তানী আয় ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

শুরুতেই বলেছি চীন বিশে^র দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। চীন ভৌগোলিক ভাবে আমাদের খুব কাছের দেশ, প্রতিবেশীও বলা চলে। দীর্ঘ ৩০বছর পর চীনা কোনো রাষ্ট্রপতির এই সফর । সঙ্গত কারণে এর পটভূমিও খুব বড়সড়। বাংলাদেশ - চীন সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক ঘটনা হিসেবে দেখাই বাঞ্চনীয়। আমাদের দেশে চীনা রাষ্ট্রপতি হিসেবে যিনি সফর করে গেলেন তাঁর অর্থনৈতিক জ্ঞানও বেশ প্রগাঢ়। গত বছরই তিনি “এক অঞ্চল, এক পথ” নীতির কথা পৃথিবীর সামনে উপস্থাপন করেছে বৈকি। এছাড়া তাঁর দেশ ৪ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের সিল্ক রোড তহবিল গঠন করেছে। যা কিনা মি. সি চিন পিংয়ের বলিষ্ঠ অর্থনৈতিক দর্শনের পরিচায়ক। মনে করা হচ্ছে বাংলাদেশের যেসব আকাক্সক্ষা ছিল চীন তা মনোযোগের সঙ্গেই দেখেছে। আগ্রহের তেমন ঘাটতি পরিলক্ষিত হয় নি। তবে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতাকে ঢেলে সাজাতে হবে।অভ্যন্তরীন সামর্থ্যরে অভিজ্ঞতার দিকে তাকালে আমাদের হতাশ হতে হয়। এসব ঘাটতির চুলচেঁড়া বিশ্লেষণেই আমরা আঁচ করতে পারবো যে আমাদের কোন কোন ক্ষেত্রে যোগ্য হয়ে উঠতে হবে। সেটা হতে পারে মানব সম্পদে, হতে পারে রাজনৈতিক কিংবা কূটনৈতিক দক্ষতায়।

 আমাদের যা প্রয়োজন তা মেটানোর সামর্থ্য বোধ করি চীনের রয়েছে। এটা উভয় দেশের সৌহার্দ্যরে কারণেই। তবে অঙ্গিকার বড় হওয়ার আস্ফালনের কিছুই নেই। এমনকি কি ধরনের শর্তে এই সহযোগীতা তাও খতিয়ে দেখতে হবে। তার জন্যে দক্ষিণ এশিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে চীনের বিনিয়োগের ধরণগুলো দেখতে হবে। কী শর্তে বিনিয়োগ নেবে, তার নীতিগত কাঠামোও থাকা উচিত। সেই কাঠামোর ভেতরেই সহযোগীতা বাস্তবায়নের চেষ্টা করতে হবে। জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি কিন্তু সর্বদা সামনে রাখতে হবে।  

অতি উচ্ছ্বাসিত মনোভাবকে আগলে রেখে সামনে বাড়তে হবে। খুব স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক সামর্থ্য বাড়লে দেশের অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটবে। এ সফর দক্ষিণ এশিয়ায় বাতাবরণ তৈরিতে ইতিবাচক ভ’মিকা রাখতে পারে। তবে এ কথা মাথায় রাখতে হবে যে, বাংলাদেশ ও চীন নতুন করে সম্পর্কের যে ভিত রচনা করল তার ভিত্তি মূলত রচিত হয়েছিল হাজার বছর আগে। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, তৎকালীন চীনা স¤্রাটের প্রতিনিধি হিসাবে জেং হি  তৎকালীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয়ে এসেছিলেন। ১৪০৫ থেকে তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দু’বার বাংলায় এসেছিলেন। জেং হি মা হি নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি সফল কূটনীতিকও বটে। নৌ বাহিনীর দক্ষ নাবিক জেং হি মা হি ইউনান রাজ্যের প্রতিনিধি হিসেবে বানিজ্যের উদ্দেশ্যে ভারত মহাসাগর ভুক্ত দেশগুলোতে ঘুরে বেড়াতেন। তার ছিল বিশাল নৌ বহর। আর এতে করে এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে চীনের একটি বানিজ্যিক সম্পর্ক তিনি স্থাপন করেছিলেন। চীনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং তাঁর যে মেরিটাইম সিল্ক রুটের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছেন, তার পেছনে কাজ করছে এই জেং হি-র  চিন্তাধারা । প্রেসিডেন্ট স্বয়ং একাধিকবার স্বীকার করেছেন জেং হি-র অবদান। এবারের সফর যেমন বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ন মনে করেছে ঠিক তেমনি চীনও বেশ গুরুত্বপূর্ন মনে করেছে। কারণ চীনেরও যথেষ্ঠ স্বার্থ রয়েছে বাংলাদেশে। ব্যবসায়িক স্বার্থের পাশাপাশি চীনের রয়েছে স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থও। তবে যা হোক শি চিন পিং এর এবারের ঢাকা তথা ভারত সফরের তাৎপর্য অনেক। বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত পকিস্তান দ্বন্দ্ব, চীন কর্তৃক পাকিস্তানকে সর্মথন, ভারত মহাসাগরে ক্রমবর্ধমান চীনা প্রভাব বৃদ্ধিতে ভারতীয় উদে¦গ, ভারত - মার্কিন সামরিক সহযোগিতা ও চীনকে ঘিরে ফেলার মার্কিন উদ্যোগসহ নানা কারনের পরিপ্রেক্ষিতে চীনা প্রেসিডেন্ট ভারতে গিয়েছিলেন।



চীনা প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফরের সময় প্রায় ২৪ বিলিয়ন  ডলারের সাহায্যের কথা ঘোষনা করা হয়েছে বলে জানা যায়। প্রায় ২৫ টি প্রজেক্টে এই সাহায্য দেওয়া হবে। তবে আমাদের দেশের জন্য অগ্রাধিকার গুলো হচ্ছেÑ



১. অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের আরও সহযোগীতা নেওয়া। যেমন ধরুন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে প্রচুর নদী যা এখন শুকিয়ে গেছে, এই নদীগুলোর উপর আমরা ব্রীজ নির্মান করতে পারি চীনা প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে।এর ফলে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে, যা অর্থনীতিতে বিপ্লব বয়ে আনবে।

২. চীন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শুল্কমুক্ত বানিজ্য চুক্তি করছে। এ ব্যাপারে আমরা বেশ আগ্রহী হতে পারি।

৩. চীনের সহযোগীতায় আমরা আমাদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কারিগরি প্রশিক্ষন কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারি। তাতে করে দেশে দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরী হবে।

৪. স্বাস্থ্য খাতে চীনের অবদানও স্বীকৃত। এ সেক্টরে আমরা যৌথ বিনিয়োগ করতে পারি।

৫. চীন এখন বড় শিল্পে প্রবেশ করেছে। তাই ছোট ছোট রপ্তানীমুখী কারখানাগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। আমরা তাদের জন্য এই সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে পারি।তারপরও যেসব প্রকল্প উ™েবাধন করা হয়েছে, তা আমাদের জন্য একটি বড় পাওনা। চীন বাংলাদেশের উন্নয়নে যে অন্যতম অংশীদার এসব চুক্তি ও সমঝোতা-স্মারকের মধ্য দিয়ে তা আবারও প্রমাণিত হলো। এই সম্পকর্কে ”কৌশলগত অংশীদারিত্ব” হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিং-এর ঢাকা সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কে নতুন এক উচ্চতায় উপনীত হলো। আমরা যদি এই কৌশলগত অংশীদারিত্বকে কাজে লাগাতে পারি, তবেই সফল হতে পারবো। তা না হলে, চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক শুধু কাগজে-কলমেই থেকে যাবে।

২০১৭ সালকে বন্ধুত্বের বছর হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তা যেন মুখেই থেকে না যায়, তার যেন ফলপ্রসূ প্রয়োগ আমরা দেখতে পাই। সেই সাথে উক্ত সাল বিনিময়ের সাল হবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন অনেকে।

বাংলাদেশের বাণিজ্যিক লেনদেনের পরিমান বেড়ে চলেছে এবং এখন বাংলাদেশের একটি আধুনিক গভীর সমুদ্র বন্দরের একান্ত প্রয়োজন। সোনাদিয়ায় অথবা মাতারবাড়ী অথবা পায়রায় যেখানেই হোক, সেই গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের ক্ষেত্রে জাপান, চীন ও ভারত আগ্রহী রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। এই সম্বন্ধে জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত রেখে সরকার একটি সিদ্ধান্ত নেবে, এই আশা তো রাখাই যায়।

স্বপ্ন আমাদের দেখতে হবে, তবে অবশ্যই দেশের সঙ্গে। অতীতের নীরিখে বর্তমানের আলোকে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে স্বপ্নের বীজ বুনতে হবে। ভালো তথা উন্নয়ন মূলক যে কোন কাজে ঝুঁকি থাকবেই। আর তা উতরাতে হবে খুব গঠনগত উপায়ে। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যাতে করে ক্ষুদ্র স্বার্থ লাভের আশায় বৃহৎ স্বার্থ জলাঞ্জলি দিতে না হয়। বৈষ্ণিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে অর্থনৈতিক খাতকে সুদৃঢ় করতে হবে। তবে সব কিছুর মূলে কিন্তু রাজনৈতিক  স্থিতিশীলতা একান্ত কাম্য। অন্ধকারকে ছাপিয়ে আলোর কাতারে সামিল হতে হলে সকলের মতামতকে গরুত্ব দিয়ে ঐক্যমত্যকে প্রাধান্য দিতে হবে। বড় বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মানসিকতা রাখতে হবে। আর বোধ করি তা মোকাবেলা করার সক্ষমতা আছে বিধায় বিশ্ব ব্যাংক ইতিমধ্যেই ২০০ কোটি ডলার দেওয়ার জোর আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বাংলাদেশের পারিপার্শি¦ক স্তিতিশীলতা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দেশ যে আলোর পথে হাঁটছে তা তিনি আঁচ করেছেন বৈকি। ঘ্যান ঘ্যান করা লোক থাকবেই আর তাতে থমকে যাওয়ার কিছু নেই।

সবুজ অভয়ারণ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। এ দেশে রয়েছে বহু প্রাকৃতিক সম্পদ। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে মানব সম্পদ। আর এ মানব সম্পদকে দক্ষ করে গড়ে তুলে লুক্কায়িত অপার সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়, আগামীর বাংলাদেশ দেখতে চাই পশ্চিমা সংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে মুক্ত ও প্রযুক্তি নির্ভর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। যে দেশের প্রতিটি মানুষ হবে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক। হাটবে তাঁর স্বপ্নের পথে, দেশকে নিয়ে যাবে স্বপ্নের শেষ বন্দরে।       



 

আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
২০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
একটা নদী উপহার পেয়েছি রটনার মত ছড়িয়ে যাচ্ছে , গুজব না সত্যি ! আমার একটা নদী আছে যদিও আমি নদী চাইনি চেয়েছি চাঁদ , তবু নদীই পেলাম বিস্তারিত
২০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এক গৃহবধু দেবর ও ভাশুরের নির্যাতন, হয়রানিমূলক মামলাসহ বিভিন্ন কুৎসার হাত থেকে নিজের পরিবারের সদস্যদের বাঁচাতে সংবাদ সম্মেলন বিস্তারিত
২০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
ড্রিম ডিভাইজারের নিজস্ব উদ্ভাবিত স্বপ্ন- সুশিক্ষা- সুযোগ মডেলে সুশিক্ষায় স্বপ্নবুননে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে। সুশিক্ষায় স্বপ্নবুননে বিশেষ আয়োজন হচ্ছে স্বপ্ন-আড্ডা। স্বপ্ন আড্ডার বিস্তারিত
© স্বত্ব বিএমটিআইনিউজ ২০১৫ - ২০১৭
সম্পাদক :
মিঞা মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : শাহআলম শুভ
৩৭৩,দিলু রোড (তৃতীয় তলা)মগবাজার, ঢাকা-১২১৭
ফোন: ০২৯৩৪৯৩৭৩, ০১৯৩৫ ২২৬০৯৮
ইমেইল:bmtinews@gamil.com