ভূয়া প্রেম



হাসান সাইদুল



পুরো মাথার চুলের আগাগুলো কান বেয়ে চোখ ও গালের উপর পড়েছে। মৃদুহাসি মাখা মুখটায় মসৃনতায় ভরা। চোখের ভ্রমর দেখতে অসাধারাণ। মধ্যবয়সী মধ্যম শরীরের অধিকারি। এটা বাস্তবে না, হাসি নামে একজনের  ফেসবুক প্রোফাইলের ছবি দেখে বুঝতে পারে রিক্তার। ফেসবুকে যতবার ডুকে হাসির ফেসবুকে একবার হলেও ডুকে। ছবিগুলো দেখে, লেখাগুলো পড়ে। ফেসবুকের যে কোনো পোস্টে একবারের বেশি লাইক দেওয়া যায় না। এটা যেনো ভুল করছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ রেগে গিয়ে নিজেই বলতে থাকে রিক্তার। 

ভয় হয় কিছু লিখতে হাসিকে যদি বিরক্ত হয়। বা উল্টা পাল্টা কিছু উত্তরে লিখে। কিন্তু এভাবে তো চলে না। অপেক্ষা, এ যেনো মৃত্যুর চেয়ে ভয়ানক। সাহস করে আজ রিক্তার হাসিকে লিখে- হায়!

হায়! কেনো আপনি বাংলাদেশী না? সাথে সাথে উত্তর দেয়ে হাসি।

দুঃখিত! কেমন আছেন? 

ভালো। আপনি?

জ্বি ভালো। আপনি কি খুব ব্যস্ত?

হ্যা ব্যস্ত। কিন্তু আপনি বলেন কি বলতে চান?

আপনাকে খুব ভালো লাগে!

তাই? কেনো? আমাকে দেখেছেন কোথাও?

না। প্রোফাইলের ছবিটা খুবই সুন্দর দেখতে।

তাই বুঝি? ছবি দেখেই আমাকে ভালো লেগেছে?

হ্যা! সত্যি বলছি। 

তো আমি এখন কি করতে পারি?

কি করবেন? আমার সাথে ফেসবুকে কথা বলবেন।

আর?

আর কি। তারপর ফোনে কথা বলবেন

আর?

আর! আর আমার সাথে দেখা করবেন।

হুম। আর কিছু?

সব যদি একদিনে বলে ফেলি বাকী থাকবে কি?

বাকী কিছু রাখতে নাই। সব বলে ফেলেন?

আমি আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি। 

অহ! এই তো শেষ? আর কিছু আছে?

মানে কি?

কিছু না। আপনি আমার সাথে কথা বলতে চান। দেখা করতে চান। ভালোবেসে ফেলেছেন। এর পর আর কিছু আছে কিনা জানতে চাইছি।

ধীরে ধীরে সব বলবো অস্থির হওয়ার কিছু নাই।

না আপনার কথাগুলো না শুনে যদি হঠ্যাৎ হারিয়ে যাই বা মরে যাই?

না না মরবেন কেনো। আমি আপনাকে তো পছন্দ করি ভালোবাসি।

অ তাই বুঝি?

হ্যা বুঝি। আপনার ফোন নাম্বারটা দিন

সরি।

কেনো?

নাম্বার না দিয়ে যদি আপনাকে ব্লক দিয়ে দেই কেমন হবে?

মোটেই ভালো হবে না। আমার খারাপ লাগবে।

তাই নাকি?

আর আপনি আমার আইডি ব্লক করলে আরেকটা আইডি থেকে মেসেজ পাঠাবো। আইডি খুলতে তো টাকা লাগে না বা কোনো হাতের চাপ লাগে না।

ও এই কথা? আর আমি যদি ফেসবুক আমি না চালাই?

আপনি আমাকে ব্লক করুন কিন্তু ফেসবুক না চালানোর কথা বলবেন না।

এতে আপনার লাভ?

আমি অন্য আইডি থেকে আপনার প্রোফাইলে তো ডুকতে পারবো? প্রতিদিনে আপনার অনুভূতি জানতে পারবো কিন্তু ফেসবুক না চালালে তো পারবে না।

ফেসবুকে ক্ষুধেবার্তা পাঠান। ফোনে কথা বলতে ভালো লাগে না। 

এরপর দু দিন ফেসবুকে আসেনি হাসি। রিক্তারতো পুরোপুরি ভালোবেসে ফেলেছে হাসিকে। দিনের বেশিরভাগ সময় ফেসবুকে থাকে। বার বার দেখে হাসির ফেসবুকের ছবিগুলো। 

দ্ইু দিন না দুই দুই সপ্তাহ হয়ে গেলো। হাসিকে ফেসবুকে পায় না রিক্তার। হাসির সাথে যোগাযোগ করতে মরিয়া সে। কিন্তু ফেসবুক ছাড়াতো আর কিছু জানা নাই। হাসির প্রোফাইলের এবাউট অবশনে দেয়া আছে হাসির বাসা মোহাম্মদপুর। চাকুরি করে বনানীর একটি বেসরকারি কোম্পানীতে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে। ঐ কোম্পানীর প্রোফাইলে ডুকে রিক্তার। ফোন নাম্বার দেয়া থাকায় অন্তত হাসির সাথে দেখা করার একটা উপায় হয়। বনানীর রিহা গ্র“পে কাজ করে হাসি। 

ভালোবাসার টানে মন চলে যায় রিহা গ্র“পে। সকাল দশটায় রিক্তার একটা গোলাপ ফুল পকেটে নিয়ে বসে রিহা গ্র“পের চারতলায় যায়। অভ্যন্থনাগারে একজন ভদ্রমহিলা বসে তাকে জিজ্ঞেস করে আপনাদের এখানে হাসি নামে কোনো কম্পিউটার অপারেটর আছে কি?

না এই নামে তো কেহ এখানে কাজ করে না। 

কি বলছেন। রিহা গ্র“পে একজন কম্পিউটার অপারেটর যিনি চার মাস হলো এখানে কাজ করছেন।

চার মাস হলো একজন এখানে এসেছেন কিন্তু তার নাম হাসি না হাসিবুল।

আচ্ছা আমি কি তার সাথে দেখা করতে পারি?

হ্যা পারেন। 

আচ্ছা আপা একটু সহযোগীতা করতে পারেন?

বলেন?

আপনাদের এখানে যারা কম্পিউটার অপারেটর তাদেরকে একবার জিজ্ঞেস করবেন যে হাসনা হাসি নামে কেউ ফেসবুক চালায় কিনা?

জ্বি আপনি বসুন এখানে।



পনের মিনিট পর একজন অফিস সহকারী এসে রিক্তারকে নিয়ে যায় ভিতরে। শীতল বাতাসে গরমী অনুভূত নাই। বোধ হয় রিহা কোম্পানীর কোনো উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কক্ষ। আসে পাশে কেউ না। চেয়ারে বসা মধ্যবয়সী লোকটি বলে ওঠে-

তুমি রিক্তার?

জ্বি।

কি করো এমনিতে?

অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিছি

গুড। হাসি দিয়ে বলে ওঠে, হাসির কাছে আসছো?

একটু বিব্রত হয়ে বলে ওঠে রিক্তার, জ্বি... হ্যা। কিন্তু আপনি?

হ্যা আমি। আমি অকিল রহমান। আমি রিহা গ্র“পের চল্লিশ ভাগ শেয়ারের মালিক। এখানে বসি। ফেসবুকে হাসি নামের আইডি আমি চালাই। ইন্টারনেট থেকে নিয়ে ছবিগুলো পোস্ট করেছি।

রিক্তার দির্ঘ্যশ্বাস ফেলে অকিল রহমানের দিকে তাকায়।

আমি জানি কাজটি ঠিক হয় না আমার। তবে করলাম! কিন্তু তুমি যেটা করেছো সেটা বোকামি।

এদিক সেদিক তাকায় রিক্তার। তার ভিতরটা একটু অস্বাভাবিক হয়ে গেছে। এরই মাঝে চা নাস্তা নিয়ে এসেছে একজন সহকারী।

তো যাই হয়েছে এর জন্য আমি ক্ষমা চাচ্ছি। খুব খারাপ হয়েছে আমার। তবে তুমি যে ফেসবুকের ছবি দেখে হাসিকে এতো ভালোবেসে ফেলবে জানি না। দক্ষতার সাথে হাসির কর্মস্থল বের করে চলে আসছো। এই দক্ষতা দেশের কাজে লাগাও রিক্তার।

আর আপনি বা আপনাদের মত যারা নামে বেনামে ফেসবুক চালায় বা অন্যের ছবি ব্যবহার করে?

সেটাও অন্যায়। কিন্তু অন্যায় করা যেখানে সহজ। এবং সততা যেখানে নিরবে কাঁদে সেখানে খারাপ কিছু করা অসম্ভব না। 

কিন্তু আপনি তো আপনার সঠিক পরিচয় ব্যবহার করতে পারতেন।

তাম কিন্তু করি না।

আপনার মত হাজার লক্ষ ভূয়া মানুষ। না মানে ভূয়া ফেসবুকার আছে যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটাকে একটা অপরাধের স্ট্যাশন বানিয়ে ফেলছে।

আর শুধু কি তুমিই ছবি দেখে প্রেমে পড়ছো? আর কেউ পড়ে না দেশে বিদেশে। সেটা কি মানবিক?

একটু লজ্জিত হয় রিক্তার। কিছু বলতে চাইলেও শব্দ হয় না। 

চা নেও বিস্কুুট খাও।

না ঠিক আছে আপনি খান। আমি তাহলে যাই।

বসো বসো। পিছন তাকিয়ে রিক্তার বলে ওঠে, আপনি যেটাকে সরি বলে শেষ করতে চান বিষয়টা এমন না। মানুষের ভালো লাগা ভালোবাসা স্থানকাল বেধে আসে না। চোখের দেখায়ও ভালোবাসা হতে পারে।



বসো। যা হবার তো হলোই নিজেকে সামলাও রিক্তার।একবার এদিক তাকায় আবার ওদিক। পরে দির্ঘ্যশ্বাস ছাড়ে রিক্তার। ভেতরটা তার পুড়ে যাচ্ছে। ভালো লাগাটা এমনই। কোনো জবাব নাই তার মনে। ফেসবুকটা কি তবে তার জন্য বিষাক্ততার জন্ম দিলো? কোনো জবাব নাই। রিহা গ্র“প থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রইলো আর একবার ফিরে থাকালো রিহা গ্র“পের চার তলার দিকে। পকেটে গোলাপ ফুলটা মুচরিয়ে পায়ের নিচে ফেলে রিক্তার। বাস এসে দাঁড়ায় তার সামনে। ওঠতেই বাস চলতে লাগলো গুলশানের দিকে...



 



 



 



 



 



বিএমটিঅাই নিউজ ডটকম / সি ডি এম / এম 



 

আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
২০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
একটা নদী উপহার পেয়েছি রটনার মত ছড়িয়ে যাচ্ছে , গুজব না সত্যি ! আমার একটা নদী আছে যদিও আমি নদী চাইনি চেয়েছি চাঁদ , তবু নদীই পেলাম বিস্তারিত
২০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের এক গৃহবধু দেবর ও ভাশুরের নির্যাতন, হয়রানিমূলক মামলাসহ বিভিন্ন কুৎসার হাত থেকে নিজের পরিবারের সদস্যদের বাঁচাতে সংবাদ সম্মেলন বিস্তারিত
২০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
ড্রিম ডিভাইজারের নিজস্ব উদ্ভাবিত স্বপ্ন- সুশিক্ষা- সুযোগ মডেলে সুশিক্ষায় স্বপ্নবুননে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করে। সুশিক্ষায় স্বপ্নবুননে বিশেষ আয়োজন হচ্ছে স্বপ্ন-আড্ডা। স্বপ্ন আড্ডার বিস্তারিত
© স্বত্ব বিএমটিআইনিউজ ২০১৫ - ২০১৭
সম্পাদক :
মিঞা মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : শাহআলম শুভ
৩৭৩,দিলু রোড (তৃতীয় তলা)মগবাজার, ঢাকা-১২১৭
ফোন: ০২৯৩৪৯৩৭৩, ০১৯৩৫ ২২৬০৯৮
ইমেইল:bmtinews@gamil.com