আব্দুল্লাহ আল মামুন: বাংলায় এখন দুজন দিদি। কিন্তু দিদি নম্বর ওয়ান কে? সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রথমেই রক্ষণার্থক খেলে দিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।



বলে দিলেন, ‘নম্বর ওয়ানের আসন সব সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দ্বিতীয় আসনটা আমার হলেও হতে পারে।’



রুপালি জগতের বদৌলতে আজ তিনি রচনা বলে পরিচিতি পেলেও আসল নাম ঝুমঝুম বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৯৪ সালে মিস কলকাতা হওয়া পর্যন্ত সবাই ঝুমঝুম নামেই চিনতেন তাঁকে। তারপর রুপালি জগৎই নাম বদলে দিল তাঁর। সেই সময় নাকি তাবৎ তাবৎ পরিচালক-প্রযোজকদের মনে হয়েছিল ঝুমঝুম নাম বাজারে ঠিকঠাকমতো খাবে না। ফলে বাধ্য হয়ে রীতিমতো গীতবিতান খুঁজে ‘রচনা’য় ভরসা রাখলেন তিনি।



সপ্তাহে সাতদিন টেলিভিশনের পর্দায় নিয়ম করে কোমরে শাড়ি পেঁচিয়ে দিদি নম্বর ওয়ানের ময়দানে নামছেন রচনা। তাই বলে পশ্চিমবঙ্গে হাল ফিলে যেভাবে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা রাজনীতিতে নাম লেখাচ্ছেন, সেই দৌড়ে মোটেই নাম লেখাতে চান না তিনি। জানিয়ে দিলেন, ‘রাজনীতিতে আমার বিন্দুমাত্র উৎসাহ নেই।’



আজ টিভির দৌলতে বাংলাবাজারে দিদি নম্বর ওয়ানের মুখ্য সঞ্চালক হলেও ফিল্মে কিন্তু এখনো উৎসাহ হারাননি রচনা। পছন্দের ছবি পেলে নিশ্চয়ই অভিনয় করবেন। তাই বলে বাজারি ছবিতে আর কাজ করতে চান না রচনা। অন্য আর দশটা ফিল্মস্টারের মতো গতানুগতিক ধারায় না হেঁটে সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিলেন, নতুন-পুরোনো, চেনা-অচেনা কোনো পরিচালকই তো আসছেন না। ফলে নতুন ছবিতে কাজ করাও হয়ে উঠেছে না।



অভিনেত্রী রচনা মনে করেন, প্রতিটি মানুষের জীবনেই নির্দিষ্ট কিছু কোটা থাকে। তাঁর জীবনে অভিনয়ের কোটা তিনি অনেকটাই পূরণ করে ফেলেছেন। এখন সংসারধর্মকেই প্রাধান্য দিতে চান সবচেয়ে বেশি। সংসারের ক্ষতি, ছেলের পড়াশোনার ক্ষতি করে নতুন উদ্যমে আর কেরিয়ারে ফিরতে চান না।



তবে ভালো ছবি পেলে তিনি যে অভিনয় করতে চান সে কথাও একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন। কেরিয়ারের এই পর্যায়ে এসে এখন মূলত দুই ধরনের রাস্তা খোলা থাকে বলে মনে করেন রচনা। একটি, সুচিত্রা সেনের মতো আচমকা নিজেকে লাইমলাইট থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া। আর দ্বিতীয়টি হলো, প্রযোজকদের অফিসে গিয়ে ধরনা দেওয়া। কিন্তু কোনোভাবেই দ্বিতীয় পন্থায় যেতে রাজি নন রচনা। জানিয়ে দিলেন, ‘সম্মান খুইয়ে অন্তত অভিনয়ের জন্য ভিক্ষে করাটা আমার দ্বারা হবে না।’ কাউকে কাউকে সেটা করতে দেখলেও মনটা খারাপ হয়ে যায় তাঁর।



মূলত নব্বইয়ের দশক থেকে যখন বাংলা ছবির মোড় ঘুরতে শুরু করে, সেই সময় ওড়িশায় চুটিয়ে অভিনয় করতেন রচনা। ওড়িশার জনপ্রিয় অভিনেতা সিদ্ধান্ত মনমোহন মহাপাত্রের সঙ্গে জুটি বেঁধে রীতিমতো ওড়িষ্যা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি কাঁপাতেন তাঁরা। সেই সময় তাঁদের জুটি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে, গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, রচনা-সিদ্ধান্ত নাকি একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেছিলেন। তাঁরা নাকি সেই সময় একসঙ্গে লিভ টুগেদারও করতেন! যদিও পরবর্তী সময়ে সেই সমস্ত গুঞ্জনকে মিথ্যে প্রমাণ করে রচনা ফিরে আসেন কলকাতায় এবং কলকাতায় এসে তিনি যথেষ্ট খুশি। খুশি বর্তমান স্বামী-সংসার নিয়েও।



টেলিভিশনের পর্দার সিরিয়াল নিয়ে খুব বেশি আগ্রহ নেই রচনার। তার চেয়ে ‘গেম শো’ নিয়েই ভালো আছেন তিনি। টেলিভিশনে গেম শোয়ের পাশাপাশি এখন শীতকালে ‘মাচা শো’ (গ্রামগঞ্জের মঞ্চ অনুষ্ঠান) নিয়েও মহা আনন্দে আছেন রচনা। শীতকালে এখন নিয়মিত গ্রামগঞ্জে গিয়ে বিভিন্ন সংগীতসন্ধ্যা মাতান তিনি। আর সেখানে সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস তাঁকে আরো উদ্বেলিত করে। সিরিয়াস ছবি পেলেও এই ‘মাচা শো’ বন্ধ করতে চান না তিনি। পাশাপাশি অভিনয়টাকেও আগামী দিনে ধরে রাখতে চান রচনা।রচনা ব্যানার্জী বাংলা চলচিত্রের একজন অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা। তার অভিনয়ে দর্শকরা মুগ্ধ। তিনি বেশ কিছু ভাল ছবি উপহার দেন দর্শকদের।



 

আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
১৬ ডিসেম্বর ২০১৭
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
আজ শনিবার মহান বিজয় দিবস। এ দিনটি বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিবস। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার বিস্তারিত
১৬ ডিসেম্বর ২০১৭
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ইডেন মহিলা কলেজের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উৎযাপন উপলক্ষে "বিজয় মেলা ২০১৭" আয়োজনের মাধ্যমে এক আনন্দঘন পরিবেশে কলেজ ক্যাম্পাসে বিস্তারিত
০৩ ডিসেম্বর ২০১৭
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
নাটকের গল্পে ৯ বছর বয়সি অলির চরিত্রটি রূপায়ন করেছে শান্ত নামের এক ছেলে। মজার ব্যাপার হলো- সবাই এখন শান্তর সঙ্গে সেলফি বিস্তারিত
© স্বত্ব বিএমটিআইনিউজ ২০১৫ - ২০১৭
সম্পাদক :
মিঞা মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : শাহআলম শুভ
৩৭৩,দিলু রোড (তৃতীয় তলা)মগবাজার, ঢাকা-১২১৭
ফোন: ০২৯৩৪৯৩৭৩, ০১৯৩৫ ২২৬০৯৮
ইমেইল:bmtinews@gamil.com