ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দু’দিনের  ঢাকা সফর শেষে রোববার রাতে দেশে ফিরে গেছেন। এ সফরে দু’দেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ক এটি নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে বলে দু’দেশের পক্ষ থেকেই দাবি করা হয়েছে। দু’দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে অন্তত: ২২টি চুক্তি, সমঝোতাপত্র এবং প্রটোকল।



চুক্তি অনুযায়ী, ভারত পেয়েছে বাংলাদেশের উপর দিয়ে সড়ক, নৌ ও রেলপথ ব্যবহার করে তাদের মালামাল, পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের ট্রানজিট। পেয়েছে এই প্রথমবারের মত দেশের দুই সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম ও মংলা ব্যবহারের অধিকার।



ভারতের স্বার্থে তাদের রাষ্ট্রীয় বিমা ও বিদ্যুৎ কোম্পানিকে ব্যবসায়িক অধিকার দেয়া হয়েছে। ২০০ কোটি ডলারের ঋণ দেয়া হয়েছে যার শতকরা ৭৫ ভাগ ফেরত যাবে ভারতে তাদের দেশ থেকে মালামাল কিনতে। তাদের লোকদেরই কর্মসংস্থান করা হবে বাকি অর্থ দিয়ে।



দু’দেশের যৌথ ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ জোরদারের লক্ষ্যে নতুন নতুন ধারণার প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থন এবং ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য তাঁর অঙ্গীকারের জন্য শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছেন নরেন্দ্র মোদি।



বাংলাদেশের প্রাপ্তি কি এ সফর থেকে?



দৈনিক দিনকাল পত্রিকার সম্পাদক ড. রেজোয়ান সিদ্দিকীর মতে বাংলাদেশের প্রাপ্তি এখানে শূন্য। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ভারতের ট্রানজিট, করিডোর, নৌবন্দর, সড়ক ও রেলপথ ব্যবহার সবকিছু দিয়েছে। আর ভারতের কাছ থেকে আমাদের প্রধান প্রত্যাশা ছিল তিস্তা নদীর পানি কিন্তু তা পাওয়া যায়নি। তিস্তার পানি আমাদের অধিকার আর আমরা ভারতকে যা দিলাম তা বন্ধুত্ব। অধিকার আদায় না করে বন্ধুত্বের মাধ্যমে ভারতকে আমরা সবকিছু দিয়ে দিয়েছি।”



এ প্রসঙ্গে, বর্তমান সরকারের নতজানু নীতির পাশাপাশি বিএনপি’র রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের সমালোচনা করেন বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা জনাব রাজেকুজ্জামান রতন।



তিনি বলেন, একজন ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আর একজন ভবিষ্যতে ক্ষমতায় যাবার আশায় মোদির প্রতি এতটাই আবেগ আপ্লুত হয়েছেন, যে তারা দেশের  স্বার্থ বা মান-মার্যদাকেও ধূলায় মিলিয়ে দিয়েছেন।



রতন আরো বলেন, এই সফরের মধ্যদিয়ে আবারো প্রমাণিত হলো যে, আমাদের ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতাপ্রত্যাশী দলগুলো জনগণের ওপর ভরসা করার চাইতে ব্যবসায়ীদের ওপর ভরসা করা আবার কখনো কখনো বিদেশিদের সহযোগিতাকেই প্রধান বিষয় হিসেবে মনে করেন। যে কারণে  মোদির সঙ্গে দেখা করতে পারায় বিএনপি কৃতার্থবোধ করেছে।



দু’দেশের যৌথ ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠককালে তিস্তা বিষয়ে আলোচনায় আসলে মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন যে, যথাশিগগির সম্ভব তিস্তা ও ফেনি নদীর পানি বণ্টনে অন্তর্বর্তী চুক্তিগুলোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীদার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।



দুই প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে, মনু, মুহুরী, খোয়াই, গোমতি, ধরলা ও দুধকুমার নদী পানি বণ্টন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কারিগরি পর্যায়ে বৈঠকে আলোচনা চলছে।  তাঁরা অতিদ্রুত পানিবণ্টন ব্যবস্থা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।



ঢাকা সফরকালে মোদি বলেছেন যে, ভারত  নদী সংযোগ প্রকল্পের হিমালয়ের অংশে এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না, যাতে বাংলাদেশের ক্ষতি হতে পারে।


আপনার মন্তব্য
এই বিভাগের অন্যান্য সংবাদ
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
অতি উৎসাহী অনুগামী কী কী করতে পারে? তা সিনেমার পর্দায় একাধিকবার উঠে এসেছে। তারকাদের জীবনেও এ ঘটনা নতুন নয়। ভালবাসার এই বিস্তারিত
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের ভাউড়িরচর গ্রামের জামাল হোসেনের ছাগলের খামারে আগুন লেগে প্রায় দেড়শত ছাগলের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২৮ জানুয়ারী) বিস্তারিত
৩০ জানুয়ারি ২০১৮
বিত্রমটি আই নিউজ ডেস্ক
তারুণ্যদীপ্ত নাট্যসংগঠন "নাট্যদল" টি.এস.সি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর-ই সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদান স্বরুপ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের সন্মাননা প্রদান করে থাকেl এরই ধারাবাহিকতায় বিস্তারিত
© স্বত্ব বিএমটিআইনিউজ ২০১৫ - ২০১৭
সম্পাদক :
মিঞা মুজিবুর রহমান
নির্বাহী সম্পাদক : শাহআলম শুভ
৩৭৩,দিলু রোড (তৃতীয় তলা)মগবাজার, ঢাকা-১২১৭
ফোন: ০২৯৩৪৯৩৭৩, ০১৯৩৫ ২২৬০৯৮
ইমেইল:bmtinews@gamil.com